Ajker Patrika

ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি: পাসপোর্ট জমা দিলেন এস আলমের ভাই আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি: পাসপোর্ট জমা দিলেন এস আলমের ভাই আব্দুল্লাহ
প্রতীকী ছবি

ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপি মামলায় আদালতে পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদের সহোদর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান।

আজ বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-১-এর নির্দেশে তিনি পাসপোর্ট জমা দেন। এস আলম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনিই প্রথম আদালতে হাজির হয়ে এ নির্দেশ পালন করলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী শাখায় করা দুটি অর্থঋণ মামলায় আব্দুল্লাহ হাসানের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-১-এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে তিনি পাসপোর্ট জমা দেন।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইনফিনিয়া সিনথেটিক ফাইবার লিমিটেডের নামে নেওয়া ৫৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ঋণখেলাপি হওয়ায় ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা করে ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা।

একই বছরে ইউনিটেক্স স্টিল লিমিটেডের ৮১৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ মামলা করে ব্যাংকের পাহাড়তলী শাখা।

দুটি মামলায়ই ৯ নম্বর বিবাদী হিসেবে রয়েছেন আব্দুল্লাহ হাসান। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ছোট ভাই। গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন বলেন, এস আলম গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে বর্তমানে ২৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের নামে ৮০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় গত ২১ মে আদালত এস আলম গ্রুপের ১১ কর্ণধারের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

আইনজীবী হারুন বলেন, অন্য অর্থঋণ মামলাগুলোয় বিবাদীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জমা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ হাসান ছাড়া এস আলম পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি। এতে তাঁরা দেশ ত্যাগ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক থেকে। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে শিল্পগোষ্ঠীটি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত