সপ্তাহখানেক পর গৃহবধূর সন্তান প্রসবের কথা, নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিহাত আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকানাই গ্রামের মুনাফ হাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহাত আক্তার উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, আর মাত্র এক সপ্তাহ পর তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল। এর আগেই তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁর গলায় দাগ দেখতে পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে নুরুদ্দীনের সঙ্গে নিহাতের বিয়ে হয়। প্রেমের সম্পর্কের পর তাঁদের বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এ নিয়ে নিহাতের পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
পারিবারিক সমস্যা ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে নিহাত বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি স্বামীর অনুরোধে কয়েক দিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে আসেন। আজ তাঁর বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই মৃত্যু হলো।
নিহাতের মামা মোহাম্মদ মনির বলেন, পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এরই মধ্যে একাধিকবার বিচার-সালিস হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পাত্রপক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করা হতো।
নিহাতের মায়ের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নাজেহাল করা হয়েছে। কোরবানির ঈদে গরু দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। তাঁর দাবি, মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।









