
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। মাঠে এখন মৌসুমি শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য। তবে ধানের আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শেরপুরে রোপা আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৩২৫ টন। উৎপাদন হয়েছে ২২ হাজার ৪৬০ টন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। সরকার-নির্ধারিত ধানের প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে প্রতি মণের দাম ১ হাজার ৩৬০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে বাজারদর সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম। শেরপুরের বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। কম দামের কারণে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ধানের অতিরিক্ত জোগান ও ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে বাজারে ধস নেমেছে।
হাটঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি-৫ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকায়, স্বর্ণা–৫ ধান ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং ব্রি–৪৯ ধান ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩২০ টাকায়। নতুন কাটারি ধান ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়, পুরোনো কাটারি ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহে ধানের দাম কমেছে ১০০–১২০ টাকা।
কৃষকেরা বলছেন, সার, বালাইনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অনেকে ঋণ করে চাষ করেছেন। সেই ঋণের চাপে বাধ্য হয়ে আগেভাগে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। আমিনপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সার-বালাইনাশক আর মজুরি—সবকিছুর দামই বেড়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে ধান নষ্টও হয়েছে। বিঘায় ১৪ মণ ধান পেয়েছি, কিন্তু খরচই উঠছে না। এ দরে বিক্রি করলে লোকসান হবেই।’
আরও এক কৃষক জুলফিকার আলী জানান, এক সপ্তাহ আগেও স্বর্ণা–৫ ধান ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন পাইকাররা ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি দিতে চাচ্ছেন না। অনেক কৃষক বলছেন, শেষের দিকের ঝড়-বৃষ্টিতে ফলনে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। স্বর্ণা–৫ ধানের যেখানে বিঘায় ২০ মণ ফলন প্রত্যাশিত, সেখানে অনেকের জমিতে মিলছে মাত্র ১৩ মণ। খরচ হচ্ছে ১১–১২ হাজার টাকা, ফলে লোকসান পড়ছে ৫–৬ হাজার টাকা।
বাজারে চালের দর কমে যাওয়ার পেছনে ভারত থেকে শুল্কমুক্ত এক লাখ টন চাল আমদানির ঘোষণাকে দায়ী করছেন পাইকাররা। তাঁদের দাবি, আমদানির খবরে চালের দাম মণপ্রতি প্রায় পাঁচ টাকা কমেছে।
শেরপুর বারদুয়ারী হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে চাল আমদানির খবর ছড়ানোর পর থেকে পাইকাররা দাম কমিয়ে দিয়েছেন। ধান নিয়ে হাটে এলেও ঠিকমতো দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল হান্নান শেখ জানান, শেরপুর উপজেলায় এ মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৪০ টন এবং চাল ৮ হাজার ৮৮০ টন। তিনি বলেন, প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা ও চাল ৫০ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। কৃষকেরা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করেছেন, তালিকা অনুযায়ী সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হবে। বাজারদর কম থাকায় সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, এ বছর রোপা আমনের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় রোগবালাই কম ছিল। মাঠে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বাজারদর কিছুটা কম হলেও উৎপাদন বাড়ার কারণে কৃষকেরা মোটের ওপর উপকৃত হবেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চার বন্ধু দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার তিতাস এলাকা থেকে হাঁসের মাংস খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কৃষ্ণপুরে তাঁদের মোটরসাইকেলগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে সংঘর্ষ লেগে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কাউসার মিয়া মারা যান।
১ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত পাঁচজনের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে। আজ সকালে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হয়েছে। মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
২ ঘণ্টা আগে
‘রাতে ইমন তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধু ওমর ফারুকের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। রাত ২টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার সংবাদ জানা যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে এসে ইমনের মরদেহ দেখতে পাই।’
২ ঘণ্টা আগে
কৃষক জানবার প্রামাণিকের গোয়ালঘরে মশা তাড়াতে জ্বালানো কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোয়ালঘর ও বসতঘরে। এতে ঘরে থাকা চারটি গরু, চারটি ছাগল, একটি মোটরসাইকেলসহ ফসল ও আসবাব পুড়ে যায়।
২ ঘণ্টা আগে