বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় কাথম-কালিগঞ্জ ও ওমরপুর-তালোড়া রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের জানুয়ারি মাসে। রাস্তার কাজ হলেও ব্রিজের সম্প্রসারণের কোন কাজ দেখা যাচ্ছে না। আগের মতোই রয়েছে ব্রিজগুলো। ব্রিজগুলোর কাজ না হলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে বলে জানান পথচারী ও গাড়ির চালকেরা।
জানা যায়, এ দুইটি রাস্তা চারটি প্যাকেজে প্রশস্ত করণের কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। কাজের মোট বরাদ্দ ১১৮ কোটি টাকা। টেন্ডার অনুযায়ী চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা হয়নি। এ জন্য কাজের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। ওই দুইটি রাস্তা সম্প্রসারণ ও ব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রাস্তার কার্পেটিং কাজ।
কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত হলেও ব্রিজগুলো কেন প্রশস্ত হলো না এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাথম-কালিগঞ্জ ও ওমরপুর-তালোড়া রাস্তা দুটি আগে ১২ ফুট প্রশস্ত থাকলেও এখন তা সম্প্রসারণ করে ১৮ ফুট করা হয়েছে। কাথম-কালিগঞ্জ রাস্তায় ছোট বড় মোট ব্রিজ আছে ১৫টি। এর মধ্যে সম্প্রসারণ হয়েছে ৪টি। ওমরপুর-তালোড়া রাস্তায় ছোট বড় মোট ব্রিজ আছে ৩৬টি। এর মধ্যে সম্প্রসারণ হয়েছে ৭টি। এখনো ওই দুই রাস্তায় ৪০টি ব্রিজ আগের মতো সরু রয়েছে।
মোটরসাইকেল আরোহী আলমগীর কবির বাবু বলেন, `আমরা দেখি রাস্তা প্রশস্ত হলে ব্রিজও প্রশস্ত হয়। তবেই রাস্তায় চলাচল করে সুবিধা পাওয়া যাবে। এ রাস্তার ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। দেখছি বেশির ভাগ ব্রিজ আগের মতো সরুই আছে। এতে করে সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।'
ট্রাক চালক জামিল উদ্দিন জানান, আগের যে ব্রিজ আছে তাতে একটা গাড়ি উঠলে আর অন্য কোন যানবাহন ওঠার জায়গা থাকে না। এখন রাস্তা যেহেতু প্রশস্ত হচ্ছে, তাই সব ধরনে গাড়ির গতি বেড়ে যাবে। এ জন্য ব্রিজ প্রশস্ত করা দরকার। তা না হলে এ রাস্তায় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, `চারটি প্যাকেজে এ দুইটি রাস্তার কাজ হচ্ছে। প্রথম প্যাকেজে কাথম হতে সিমলা বাজার পর্যন্ত চারটি ব্রিজ প্রশস্ত করণ ছিল। সে ব্রিজ চারটি আমরা করেছি। দ্বিতীয় প্যাকেজ সিমলা হতে কালিগঞ্জ। ওই প্যাকেজে আমাদের ব্রিজের কোনো কাজ নাই।'
আতিকুর রহমান বলেন, `তৃতীয় প্যাকেজে ওমরপুর হতে হাটকরি পর্যন্ত একটি ব্রিজ প্রশস্ত করণ ছিল। ওই ব্রিজের কাজ আমরা করেছি। চতুর্থ প্যাকেজ হাটকরি হতে দুপচাঁচিয়া। সেখানে সাতটি ব্রিজের কাজ ছিল। ওই সাতটি ব্রিজের মধ্যে ছয়টির কাজ শেষ হয়েছে। আর একটির কাজ শুরু হচ্ছে।'
সওজ বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, `কিছু ব্রিজের কাজ এই প্রকল্পে হচ্ছে না। এরপরে যে ব্রিজগুলো ভালো আছে আমরা তা সম্প্রসারণ করব। আর যে ব্রিজগুলো ভালো নেই সে ব্রিজগুলো নতুন করে করার ব্যবস্থা করব।'










