Ajker Patrika

রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা: লিখিত অভিযোগের পরও নড়চড় নেই প্রশাসনে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০২
রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা: লিখিত অভিযোগের পরও নড়চড় নেই প্রশাসনে
রেলওয়ের জায়গায় বেলাল প্রামাণিকের অবৈধ দোকান। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন স্টেশন-সংলগ্ন হেলালিয়া হাট এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ ও বসবাসের অভিযোগে পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রায় শতাধিক স্বাক্ষরসহ অভিযোগ দেওয়ার পর ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে এক মাস। অথচ এখন পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি প্রশাসন।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সান্তাহার জংশন স্টেশনের পাশে হেলালিয়া হাট-সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় বেলাল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকানটির পাশ দিয়ে মসজিদের মুসল্লি এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াতের সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হন। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হলে বেলাল প্রামানিক আরও উত্তেজিত হন এবং কারও কথায় তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ছাতনী সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন সরদার বলেন, ‘অবৈধ দখলদার বেলাল প্রামানিক এখন ভীষণ প্রভাবশালী। এলাকার পুলিশ প্রশাসন ও কানুনগো অফিসের লোকজনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’

ছাতনী সরদারপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লি দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘রেলওয়ে জায়গা অবৈধ দখলদারির ক্ষমতার উৎস কোথায়? আমরা ছাতনী গ্রামবাসী জানতে চাই।’

ছাতনী ঢেকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী মাহিসা বানু, আমেনা খাতুন, জেমি বানুসহ একাধিক ছাত্রী বলেন, স্কুল ও কোচিংয়ে যাওয়ার সময় ওই দোকান থেকে তাদের উত্ত্যক্ত করা হয়। তাদের ভাষ্য, সেখানে সব সময় বখাটে ছেলেদের আড্ডা বসে এবং সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্যারাম নিয়ে জুয়া খেলা হয়। তারা অবিলম্বে দোকানটি বন্ধের দাবি জানান।

সান্তাহার রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের পরিদর্শক নুর এ নবী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে আমার গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ খায়রুল আলমের নেতৃত্বে ফোর্স পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ ও বসবাস করা বেলাল প্রামানিককে নিষেধ করেছে। কিন্তু তিনি আমাদের কথা তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে বেলাল প্রামানিক বলেন, ‘আমি দখলসূত্রে পজিশন কিনে নিয়েছি এবং লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি রেলওয়ে কানুনগো অফিসে।’

সান্তাহার রেলওয়ে ফিল্ড কানুনগো অফিসার সরিফুল ইসলাম বলেন, পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে উচ্ছেদের জন্য লিখিত আকারে চিঠি পাঠানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত