Ajker Patrika

দায়িত্বরত নার্সকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে আটক প্রাক্তন স্বামী

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
দায়িত্বরত নার্সকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে আটক প্রাক্তন স্বামী
বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক নার্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক নার্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন শাহীনকে আটক করেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আটক শাহীন ধুনট উপজেলার নিত্তিপতা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে তাসলিমার সঙ্গে প্রায় এক যুগ আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাজ্জাদ হোসেন শাহীনের। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। মাঝেমাঝেই তাসলিমাকে মারধর করতেন শাহীন। তাঁদের ঘরে ৮ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে। গত চার বছর ধরে তাসলিমা ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় গত ৬ মাস আগে তাসলিমা তাঁর স্বামী শাহীনকে তালাক দেন। এরপর থেকে তাসলিমার ওপর ক্ষুব্ধ শাহীন। আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসলিমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় শাহীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে তাসলিমাকে মারধর করেন। তাসলিমার চিৎকারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাহীনকে আটক করেন। আহত তাসলিমাকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘গত ৬ মাস আগে স্বামীকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি (শাহীন) ক্ষুব্ধ হয়ে এর আগেও দুইবার হাসপাতালে ঢুকে আমাকে মারধরের চেষ্টা করেছে। আজ মারধরই করেছে।’

অভিযুক্ত শাহীনের দাবি, স্ত্রী তাসলিমা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একমাত্র সন্তানের দিকে তাকিয়ে বহুবার তাসলিমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তারপরও তালাক দিয়েছে। আজও তাঁকে বোঝানোর সময় হাসপাতালে কথাকাটাকাটি হয়েছে, মারধর করা হয়নি।

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ কাদির বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকেই দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। আমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স বলে কয়েকদফা দুইজনকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে তাসলিমা তাঁর স্বামীকে তালাক দিয়েছে। আজ তাসলিমাকে মারধরের বিষয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে কর্মরত নার্সকে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত