Ajker Patrika

বরিশালের লালার দীঘি: পাড় দখল করে হাউজিং প্রকল্প

খান রফিক, বরিশাল 
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৩২
বরিশালের লালার দীঘি: পাড় দখল করে হাউজিং প্রকল্প
বরিশাল নগরের লালার দীঘিরপাড় ভরাট করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি দখলবাজির কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দীঘিটির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইপের মাধ্যমে ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে।

হাউজিং কর্তৃপক্ষের দাবি, দীঘিটির পাড় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তারা এখন দখল বুঝে নিচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, লালার দীঘি ভরাটের বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। দীঘিটি ভরাট করায় তারা মামলা করবে।

প্রায় ৫ একর ৮০ শতাংশের দীঘি এমনিতেই অযত্নে বেহাল হয়ে আছে। এর মধ্যে হাউজিং কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে দীঘিটির মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, লালার দীঘির দক্ষিণ পাশের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইলিং দিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু ভরাট করা হয়েছে।

দীঘি এলাকায় কথা হয় ভূমি কর্মকর্তা দিপক চ্যাটার্জীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) স্যার অভিযোগ পেয়ে পাঠিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনিসহ তাঁর সহকর্মীরা জমিটি দেখতে এসেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের এ দীঘিতে একসময় মাছ চাষ হতো, এখন কচুরিপানায় ভরা। দখলবাজিতে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে দীঘিটি। ভরাট করা স্থানে কথা হয় স্থানীয় খোকন হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাউজিং কর্তৃপক্ষ দীঘির পাড়ের এই অংশ ভরাট করছে। তারা হাউজিং প্লট করবে। বিএনপি নেতা মিজান ও চুন্নু বালু ভরাটের কাজ পেয়েছেন।

বালু ভরাটের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজান বলেন, তাঁরা হাউজিংয়ের নির্দেশে বালু দিয়ে দীঘির পাড় ভরাট করছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, তিনি বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করেছেন। হাউজিং কর্তৃপক্ষকে সরকার অধিগ্রহণ করে দিলেও তারা দীঘির পাড় ভরে জলাশয়টির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারে না। বেলা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশালের রুপাতলী হাউজিং স্টেট উপবিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লালার দীঘি ৪৫২৪ নম্বর দাগের। কিন্তু দীঘির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জমি ১৯৭৭-৭৮ সালে বরিশালের রুপাতলী হাউজিং স্টেটের নামে অধিগ্রহণ করা হয়। ওই জমি তাঁরা বালু দিয়ে ভরাট করে দখল বুঝে নিচ্ছেন। সেখানে প্লট হবে।

দীঘি ভরাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘এটা দীঘি নয়, দীঘির পাড়। আমাদের অংশ ভেঙে গেছে।’

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নেজাউল বারী বলেন, লালার দীঘির অংশ এটি। কিন্তু হাউজিং কর্তৃপক্ষ অনেক আগে এটি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, লালার দীঘির পাড় ভরাট করার ক্ষেত্রে হাউজিং কর্তৃপক্ষ পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। জলাশয় কোনোভাবে পরিবর্তন করতে হলে অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। এ ব্যাপারে মামলা করা হবে।

এদিকে বরিশালে লালার দীঘিরপাড় দখল করে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হাউজিং প্রকল্প করার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। গতকাল বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না স্বাক্ষরিত নোটিশে সরকারের ৩ সচিবসহ ৯ জনের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, চেয়ারম্যান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী।

বেলার বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন এ তথ্য স্বীকার করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত