Ajker Patrika

পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ, খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

মীর মো. মহিব্বুল্লাহ, পটুয়াখালী
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৫: ১২
পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ, খোলা আকাশের নিচে শত শত পরিবার

পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদের নেতৃত্বে প্রথম দিনে লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এদিকে পুনর্বাসন না করায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় বিপাকে পড়েছেন শতাধিক অসহায় পরিবার। এসব পরিবারগুলো তীব্র শীতের মধ্যে এখন শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। 

জানা যায়, পটুয়াখালী জেলা শহরের দুই পাশ দিয়ে বহমান লাউকাঠি ও লোহালিয়া নদী। এক সময়ের খরস্রোতা নদী দুটি দখল হতে হতে এখন প্রবাহ ছোট হয়ে আসছে। লোহালিয়া নদীর তীরের জৈনকাঠি থেকে শুরু হয়ে লাউকাঠি নদীর ব্রিজ পর্যন্ত সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে শতাধিক রয়েছে বহুতল ভবন। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান করলেও কিছুদিনের মধ্যে আবারও দখল হয়ে যায়। কিন্তু এবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে তবে পুরোটাই উচ্ছেদ হবে নাকি প্রভাবশালীরা এর বাইরে থাকবে এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শহরবাসী। 

ওই এলাকার বাসিন্দা চায়ের দোকানি রাহিমা বেগম বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকে দেখেছি এখানে আমাদের ঘরবাড়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে, আর আমরা নিজেরা ঘর স্থাপন করে বসে আছি সেগুলো ভেঙে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। একদিন আগে মাইকিং করেছে আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। কোনো  নোটিশ দেয়নি এত জরুরি ভাবে ভেঙে আমাদের রাস্তায় কেন নামানো হলো আমরা সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের পুনর্বাসন করুন, আমাদের থাকার জায়গা দিন, এই শীতের মধ্যে আমরা কীভাবে রাত্রিযাপন করব। আমাদের এই জায়গা ছাড়া কোথাও থাকার মতো জায়গা নেই।’ 

দিনমজুর মো. নিজাম সিকদার বলেন, ‘আমি এখানে ১২ বছর ধরে আছি। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব? এই মাঘ মাসের শীতের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কীভাবে দিন কাটাব? আমাদের দুইটা মাস সময় দিলেও হতো। অপরদিকে নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে বটে। কিন্তু থেকেই যাচ্ছে সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা আলোচিত সেই বহুতল পাকা ভবনগুলো। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখিয়ে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন ভবনের মালিকেরা। এসব ভবন মালিকেরা এ জমি তাঁদের মালিকানাধীন বলে দাবি করছেন।’ 

ওই এলাকার বৃষ্টি এন্টার প্রাইজ ভবনের মালিক মো. হাফিজুর রহমান সবির গাজী বলেন, ‘এই নদীর তীরে অন্তত ৩৯টি স্থাপনা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে ও আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তাই আদালতের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন এসব ঘর ভাঙতে পারে না। এ ছাড়া অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত দুই/তিন মাস সময় দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।’ 

ওই এলাকার পৌর কাউন্সিলর আলাউদ্দিন আলাল বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হলো এই পরিবারগুলো আমি তাদের জন্য অনেক অফিসে অফিসে গিয়েছি যেন তাঁদের পুনর্বাসন করা হয়। অন্তত পক্ষে খালি জায়গা দেওয়া  হয় যেন তাঁরা ঘর উঠিয়ে এই মহামারির মধ্যে থাকতে পারে। এখন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের জন্য আমি তাঁদের কাছে অনুরোধ করেছি যেন কিছুদিন পরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু তারা আমার এই কথা রাখেননি।’ 

এ ব্যাপারে উচ্ছেদ অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন মাহমুদ জানান, নদীর তীরের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তবে, যারা উচ্চ আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখাতে পারবেন শুধুমাত্র তাঁদেরগুলো ভাঙা আপাতত স্থগিত রাখা হবে। প্রথম দিনে লঞ্চঘাট এলাকা থেকে শুরু করা হয়েছে এবং তা পুরো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা পর্যন্ত চলবে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত