Ajker Patrika

৬ সড়কের কাজ: টেন্ডার জমার ২ মাসেও শুরু হয়নি সংস্কার কাজ

  • পৌরসভার প্রকৌশলী তাঁর পছন্দের লোকজনকে কাজ দেন বলে অভিযোগ
  • কাগজপত্রে ত্রুটির অভিযোগে বাদ পড়েছেন সর্বনিম্ন দরদাতা
খান রফিক, বরিশাল 
৬ সড়কের কাজ: টেন্ডার জমার ২ মাসেও 
শুরু হয়নি সংস্কার কাজ
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মেঘনা নদীঘেরা মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডার (দরপত্র) জমা দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। দরপত্র জমা দেওয়া ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী শাহাদাত করিম তাঁর পছন্দের লোকজনকে ২৩ কোটি টাকার এই কাজ দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে ঠিকাদারের নাম এখন পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।

টেন্ডার হওয়া মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ছয়টি রাস্তা হচ্ছে, চরহোগলা কালামিয়া ডিসি থেকে নতুন এতিমখানা, পাচানিঘাট ব্রিজ থেকে হাসপাতাল রোড, খেজুরতলী ব্রিজ থেকে আলী হাওলাদারের বাড়ি কালিকাপুর বাউন্ডারি ব্রিজ পর্যন্ত, চুনারচর ডাক বাংলো থেকে মৃধারহাট, পুরাতন স্টিমারঘাট হতে নতুন স্টিমারঘাট এবং আজাদ ভান্ডারের ঘাট থেকে উত্তর বাজার মসজিদ পর্যন্ত।

মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন সুজন বলেন, একটি সড়কের তেঁতুলতলা থেকে সিটিসেল পর্যন্ত অংশের অবস্থা বেহাল।

এখন জলাবদ্ধতা ঠেকাতে সড়কে বস্তা ফেলে রাখা হয়েছে। একই ওয়ার্ডের কালিকাপুর গুচ্ছগ্রাম সড়ক অংশও চলাচলের অযোগ্য। সড়কের বেহাল দশায় পৌরবাসী এই বর্ষায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জিয়া উদ্দিন জানান, এ দুটি রাস্তারই টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু কোন ঠিকাদার কাজ করবেন, সেটির সিদ্ধান্ত হয়নি।

পৌরসভার টেন্ডারে অংশ নেওয়া ১২ জনের মধ্যে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স দেলোয়ার হোসেনের প্রতিনিধি শাহিন চিশতি বলেন, প্রায় ২৩ কোটি টাকার ছয়টি রাস্তার কাজের টেন্ডার ১ এপ্রিল সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ফার্স্ট লোয়েস্ট সত্ত্বেও তাঁকে ফোন দিয়ে বলা হয়েছে, কাগজপত্রে ত্রুটি আছে; এ জন্য তিনি বাদ পড়ছেন। সেকেন্ড লোয়েস্ট দরদাতা কাজ নাও পেতে পারেন। দেড় মাস হয়ে গেলেও এ বিষয়ের কোনো সুরাহা হয়নি। শাহিন চিশতি বলেন, বিশেষ কোনো ব্যক্তি এই কাজ পেতে পারেন বলে তিনি শুনেছেন।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, পৌরসভার যত ঠিকাদারি কাজ হয়, তা প্রকৌশলী শাহাদাত করিমের পছন্দের লোকজন পেয়ে থাকেন। তিনি বিনিময়ে কাজের পার্সেন্টেজ পান। বহু বছর এখানে কর্মরত থাকায় ঠিকাদারেরা তাঁর কাছে জিম্মি।

জানতে চাইলে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী শাহাদাত করিম বলেন, ওই টেন্ডার এখনো অনুমোদন হয়নি। ফার্স্ট লোয়েস্টের কাগজপত্রে ত্রুটি আছে, তাই বাদ পড়েছে। পার্সেন্টেজের বিনিময়ে কাজ দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে শাহাদাত বলেন, মেহেন্দীগঞ্জে মন্ত্রী আছেন, প্রশাসক আছেন, নেতারা আছেন। তাঁদের কাছে দরকারে জবাবদিহি করবেন।

বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন জানিয়ে মেহেন্দীগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টেন্ডার হয়ে গেছে। এটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে। প্রকল্প আনতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব প্রকৌশলীর।’ তিনি বলেন, ফার্স্ট লোয়েস্টের কাজ না পাওয়ার সুযোগ নেই। ইজিপির ক্ষেত্রে এ ধরনের কথা প্রকৌশল বিভাগ বলতে পারে না। এটা অনলাইনে নির্ধারণ হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত