Ajker Patrika

আন্দোলনের মুখে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী ও দুমকি প্রতিনিধি
আন্দোলনের মুখে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) রেজিস্ট্রারের অপসারণসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে টানা আট দিন আন্দোলনের পর আজ বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ছুটিতে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আন্দোলন স্থগিত করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার (কর্মকর্তা সেল) উপ-রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান টমাসের স্বাক্ষরিত আদেশে ড. কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসুকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ হাওলাদারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সেখানেই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মজিবর রহমান মৃধা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অবস্থান-কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকাই মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পাঁচ-ছয়জন অনুসারী।’

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দরভাবে চালাতে গেলে অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিকে রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাই রেজিস্ট্রারের অব্যাহতিসহ সাত দফা দাবি তুলেছিলাম আমরা। দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবিপ্রবির অব্যাহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. কামরুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি আজকের পত্রিকার সঙ্গে তাঁর কথা হলে তখন তিনি বলেন, ‘তাঁরা ছয় দফার একটা দাবি দিয়েছিল আমার কাছে, সেটি আমরা গত মাসের ২৩ তারিখে রিজেন্ট বোর্ডের নীতিনির্ধারণী সভায় পাস করতে পারিনি, সে কারণে তাঁরা আন্দোলন করছেন এবং আমার অব্যাহতি চাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে আসছিল পবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ ছাড়া গত সোমবার পবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের কাছে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য স্মারকলিপি দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত