Ajker Patrika

মুলাদীতে কৃষক হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী গ্রেপ্তার, সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি স্বজনদের

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
মুলাদীতে কৃষক হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী গ্রেপ্তার, সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি স্বজনদের
মুলাদী থানা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদীতে কৃষক হারুন হাওলাদার (৫৯) হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫) গ্রেপ্তার হলেও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

নিহত হারুন হাওলাদার উপজেলার চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। গত ২৯ জুন বেলা দেড়টার দিকে তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় এবং এতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সেলিনা বেগম তাঁকে হত্যা করে মরদেহ রান্নাঘরের পাশে মাটিচাপা দেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী জাফর হাওলাদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ জানিয়েছিল তাঁর বাবাকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। পরে তাঁর মা অণ্ডকোষ চেপে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, একজন নারীর পক্ষে একাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করে গভীর রাতে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া সম্ভব নয়।

সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হান্নান চৌকিদারও বলেন, একজন নারীর একার পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, সেলিনা বেগমের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করলে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, যারা সম্প্রতি ফিরে এসেছেন।

মামলার নথি ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করেন, অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে হাত ও চোখ বেঁধে ট্রলারে করে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ২৭ জুন রাতে ছেলে জাফর হাওলাদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান সাক্ষী ছিলেন সেলিনা বেগম।

পরে প্রতিবেশীরা সেলিনা বেগমের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ২৯ জুন সকালে তাঁরা হারুন হাওলাদারের বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজির সময় রান্নাঘরের পাশে নতুন মাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেলিনা বেগম হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘হারুন হাওলাদার হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে একাই হত্যার কথা বলেছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক বা হয়রানি করা হবে না। তবে ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে। অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত