Ajker Patrika

বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখার অভিযোগ সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ১২
বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখার অভিযোগ সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
ফাইল ছবি

বরিশাল বার লাইব্রেরি থেকে এক বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে বিমানবন্দর থানায় দিনভর আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রদলের এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধে আগের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ফিরোজ শরীফ জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নথুল্লাবাদে তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আশিক হাওলাদার। ওই ঘটনায় তিনি বিমানবন্দর থানায় জিডি করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মামলা করার উদ্দেশ্যে তিনি বরিশাল আদালতের বার লাইব্রেরিতে যান। সেখান থেকে আশিক ও তাঁর লোকজন তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যান। থানায় বসেও আশিক তাঁকে জিডি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন।

ফিরোজ শরীফের দাবি, তিনি বাদী, অথচ আসামি তাঁকে ধরে নিয়ে থানায় গিয়ে জিডি তুলতে বলছেন। তিনি থানায়ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলম সিকদার বলেন, ‘সকালে ফিরোজ ফোন দিয়ে জানান, আশিক তাঁকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। পরে শুনি তিনি থানায় আছেন। আসামি কীভাবে বাদীকে ধরে থানায় নেয়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আশিক হাওলাদার বলেন, বালু ব্যবসার আর্থিক বিরোধ মীমাংসার জন্য ফিরোজসহ কয়েকজন স্বেচ্ছায় থানায় গেছেন। ওসি সাহেব বিষয়টি সমাধান করে দেবেন, তবে ব্যস্ততার কারণে বসতে পারেননি। সন্ধ্যায় বসার কথা রয়েছে।

এদিকে আজ সন্ধ্যায় ফিরোজের স্ত্রী ও মহিলা দলের ২২ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মাকসুদা আক্তার জানান, সকাল থেকে তিনিসহ তাঁর স্বামী থানায়ই আছেন। পুলিশ তাঁদের ছাড়ছে না। আশিকের বিরুদ্ধে জিডি করার কারণেই তাঁকে ধরে আনা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারে না। ফিরোজ বিএনপির একজন সদস্য। শুনেছি তাঁকে আদালত চত্বর থেকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছাড়া থানায় এত সময় আটকে রাখতেও পারে না।’

জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয়। পুলিশ কাউকে ধরে আনেনি, তাঁরা নিজেরাই এসেছেন। তিনি আমাদের হেফাজতে নিরাপদেই আছেন, ব্যস্ততা শেষে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত