Ajker Patrika

বরিশালে সংগঠিত হচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা

খান রফিক, বরিশাল 
বরিশালে সংগঠিত হচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা
বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ইফতার পার্টি। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের লক্ষ্য তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দল সংগঠিত করা এবং আগামী সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া। এ লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার শতাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ইফতার পার্টির মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের এই ক্রান্তিলগ্নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃত্ব পুনর্গঠন তাঁদের মূল পরিকল্পনা।

জানা গেছে, গত এক মাসে বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বহু আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী কারামুক্ত হয়েছেন। যাঁরা পলাতক ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেও আসা শুরু করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন, ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, মঈন তুষার, কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার প্রমুখ।

এর মধ্যে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাঁরা ক্ষুব্ধ। কারণ, এঁদের অধিকাংশই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এখন তাঁদের আর দলে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিস্থিতি নেই। এই সুযোগে তাঁরা বরিশালের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ পুনর্গঠন করে রাজনীতিতে নতুন ধারা ফিরেয়ে আনতে চান। এ জন্য সংগঠিত হচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ।

গতকাল শুক্রবার এ লক্ষ্যে নগরের রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে শতাধিক নেতা-কর্মী সংগঠিত হয়ে ইফতার পার্টিতে অংশ নেন। ৫ আগস্টের পর বরিশালে এই প্রথম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় কোনো জমায়েত বলে জানা গেছে।

ইফতার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক প্যানেল মেয়র এবং আওয়ামী লীগ কর্মী এনামুল হক বাহার বলেন, ‘আমরা অনেক দিন একত্রে বসি না। তাই ৯০ জনের অধিক আওয়ামী লীগ কর্মী নগরের রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার করেছি। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৃণমূল নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। কারও কাছে মাথা নত করতে চাই না। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চাই না। খলিফা বাদ দিয়েই রাজনীতি করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, নেত্রী বলছে ঐক্যবদ্ধ হতে। পরিবেশ থাকলে, আইনি বাধা না থাকলে সিটি নির্বাচনেও অংশ নেবেন তাঁরা।

জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ সামসুদ্দোহা আবিদ বলেন, ‘দল ক্ষমতায় নেই। সামনে আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। এ জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে বসেছিলাম। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে বসব এবং দলীয় কর্মসূচিও করব।’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন ইসলাম বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। তাতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা থাকবে। মাফিয়া, সিন্ডিকেটের হাত থেকে সংগঠনকে রক্ষা করার চিন্তা তাদের। মহানগর আওয়ামী লীগ অচল হয়ে পড়েছে। দল যে দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে এ অবস্থায় ভঙ্গুর মহানগর আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্বে সংগঠিত হতে চাই।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সুস্থধারার রাজনীতি করতে চাওয়া ভালো লক্ষণ। তবে যেহেতু আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন, সেহেতু তারা রাজনীতি করতে পারবে কি না, তা রাষ্ট্রের বিষয়। আইন, আদালত, প্রশাসন—এ বিষয়টি দেখবে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘যারা আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা করেছে, অফিস ভাঙচুর করেছে—এমন ঘটনার মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা সবাইকে আওয়ামী লীগ হিসেবে দেখি না। কিন্তু পুনর্গঠিত করে আওয়ামী লীগের কোনো অংশ রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইলে সে বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জাল সনদে ১২৮ শিক্ষক, ফেরত দিতে হবে টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের পথে ২৫০০ মেরিন সেনা, স্থল অভিযানের ইঙ্গিত পেন্টাগনের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানির সংকটে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ

‘হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে’ ইরানের খারগ দ্বীপে রাতভর ভয়াবহ হামলা

ইমাম-পুরোহিতদের হাতে মাসিক সম্মানী তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত