Ajker Patrika

প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১০
প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ চলে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ সময় ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মুসা। পরে ওই ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের সিনিয়রদের জানালে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। এরপর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

পরে রাতভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, তাঁদের বিভাগের এক জুনিয়র ছাত্রীকে ইংরেজি বিভাগের মুসা উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তাঁকে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মারধরের জন্য এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।

তবে মুসাকে মারধরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত ছিলেন। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা যেত।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, দুই পক্ষকে নিবৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা কেন বারবার এমন সংঘাতে জড়াচ্ছেন, তা খুঁজে বের করতে প্রক্টরিয়াল টিম বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত