Ajker Patrika

ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী: মহাসড়কের ২৯ কিমিতে খানাখন্দ

  • দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থীর মারা যাওয়ার পর বেহাল সড়ক আবারও আলোচনায়
  • সওজ সংস্কারের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি
  • সওজ বলছে, বৃষ্টি কমার পর শুরু হবে সংস্কারকাজ। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী
খান রফিক, বরিশাল 
ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী: মহাসড়কের ২৯ কিমিতে খানাখন্দ
বিটুমিন ট্রিটমেন্ট না করায় সেতুর ওপরে বড় বড় গর্ত। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরের দপদপিয়া সেতুতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল নগরের দপদপিয়া সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে শুরু হয় খানাখন্দ। একটি সেতুর ওপর যে বড় বড় গর্ত হয়েছে, স্থানীয়দের ভাষায়, ‘এটা নজিরবিহীন।’ তবে শুধু সেতুতে নয়, সেতুর পর থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত রয়েছে এমন বড় বড় গর্ত। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর এই সড়ক সংস্কার নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সংস্কারের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, গত ৯ আগস্ট দপদপিয়া সেতু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হন। তখন সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম সড়কটি সংস্কারে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা আন্দোলনের পর একবার গর্ত সংস্কার করা হলেও এরপর আবার খানাখন্দ হয়েছে। দপদপিয়া সেতু থেকে ববিসংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত রয়ে গেছে। বিশেষ করে সেতুর ওপর বড় গর্ত থাকায় যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ও দপদপিয়া সেতু সংস্কার শুরু না হওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের কার্যালয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এ সময় তোপের মুখে পড়েন ওই প্রকৌশলী। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সওজ কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় সেখানে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ববি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়কের গর্তে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সংস্কারসহ ফুটপাত আরসিসি ঢালাই চান তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু দপদপিয়া সেতু এবং বরিশাল বিশ্ববিদালয়ের সম্মুখভাগ থেকে চরকাউয়ার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা নয়। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাদারীপুরের ভুরঘাটা থেকে পটুয়াখালীর লেবুখালী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪ কিলোমিটারের অবস্থাই বেহাল। এ ছাড়া নগরের গড়িয়ারপাড় থেকে টোল প্লাজা পর্যন্ত নগরের মধ্য থেকে যাওয়া ১২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এমন ভাঙাচোরা গর্ত রয়েছে গৌরনদী থেকে কাশেমাবাদ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের।

গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড ও বন্দর সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে খানাখন্দসহ ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত খানাখন্দের অংশে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। ফলে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড ও বন্দরের মধ্যবর্তী এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলাবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, এমন বেহাল সেতু আর কোথাও নেই। নগরের সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কও ভাঙাচোরা। এত দিন কেন সড়ক মেরামত হয়নি, তার জবাব দিতে হবে সওজকে।

সওজ দাবি করেছে, বৃষ্টি কমার পর মহাসড়ক সংস্কার শুরু করলে আগামী ঈদুল আজহার আগেই ২৯ কিলোমিটার কাজ শেষ হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে লেবুখালীর ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪ কিলোমিটারের অবস্থা খারাপ। এই সড়ক সংস্কারে ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চরকাউয়ার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সংস্কারকাজের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এই মোট ২৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ বর্ষা গেলে শুরু হবে।

সড়কের বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে নাজমুল বলেন, গত অর্থবছরে এই মহাসড়ক মেরামত ঠিকাদার দিয়ে বড় পরিসরে করা হয়নি। তাঁরা বিভাগীয় ভাবে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো মেরামত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত