Ajker Patrika

মুলাদীতে মধ্যরাত পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্কে ৩ গ্রাম

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
মুলাদীতে মধ্যরাত পর্যন্ত বোমা বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্কে ৩ গ্রাম

বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামে রাতভর একের পর এক হাতবোমার বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তর বালিয়াতলী, উত্তর পাতারচর ও বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামে অন্তত ১৬ থেকে ১৮টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে বার্তা দিতে এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় পরপর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাত ৯টার দিকে পাশের বড় লক্ষ্মীপুর এলাকায় আরও ৪-৫টি বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে উত্তর পাতারচর ও উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় ৫-৬টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিছু সময় বিরতির পর রাত ১২টার দিকে আবারও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সফিউল্লাহ ঘরামী বলেন, গত ১৮ অক্টোবর রাতে সফিপুর খেয়াঘাটে মাছঘাটের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ৩৫টির মতো হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ গত ২০ অক্টোবর বড় লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে জামাল পালোয়ান ওরফে বোমারু জামালকে গ্রেপ্তার করে।

সফিউল্লাহ ঘরামী আরও বলেন, ওই রাতেই উত্তর পাতারচর ও বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামে ১৫ থেকে ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। রাতের আঁধারে এসব বিস্ফোরণে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেকে রাতে ঘর থেকে বের হতেও সাহস পাচ্ছেন না।

উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের আনসারুল্লাহ জানান, সফিপুর ইউনিয়নে একাধিক দল হাতবোমা তৈরি করে বলে তাঁদের ধারণা। পুরোনো ও অভিজ্ঞ কারিগরেরা নতুনদের প্রশিক্ষণ দিতে হাতবোমা তৈরি করে বিস্ফোরণের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারেন। গত ২৩ অক্টোবর রাতে উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় হাতবোমা তৈরির সময় ছয় যুবক আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর ধারণা, এক পক্ষের বিস্ফোরণের পর এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে অন্য পক্ষও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘গতকাল রাতের বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে কয়েকজন যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিগগিরই সফিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত