Ajker Patrika

আনন্দমোহন কলেজের নির্মাণকাজে চাঁদা দাবি, ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আনন্দমোহন কলেজের নির্মাণকাজে চাঁদা দাবি, ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ
নির্মাণাধীন লাইব্রেরি-কাম-অডিটোরিয়াম ভবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের আনন্দমোহন সরকারি কলেজে নির্মাণাধীন লাইব্রেরি-কাম-অডিটোরিয়াম ভবনের কাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর দুই দিন নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। এখনো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তিনতলাবিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিএই-বিবিসি-ডিসিএল (জেভি)। প্রতিষ্ঠানটি গত রোববার নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিত চিঠি দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিন সজলকে হুমকি দিয়ে বাইরে নিয়ে যান। পরে মোটরসাইকেলে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁকে কলেজে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই রাতে আবারও কয়েকজন এসে বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মেজবাহ উদ্দিন সজল বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির শিকার আগে কখনো হইনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস থেকে আমাকে তুলে নিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়েছে, বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগে। যারা এমন করেছে, তাদের নাম জানি না। তবে তারা প্রায়ই কলেজে ঘোরাফেরা করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, স্থানীয় কিছু লোক এসে চাঁদা দাবি করছেন এবং কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। ম্যানেজারকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ওই শ্রমিক।

কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে গেছে, তাদের কাউকে আমরা চিনি না। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা শঙ্কিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কথা বলেছেন। তবে এখনো শঙ্কা কাটেনি।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম সামসুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ঢাকায় ছিলাম। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে আসে। দুই দিন কাজ বন্ধ থাকলেও এখন আবার নির্মাণকাজ চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। তারা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা, পুলিশ সুপার ও ডিআইজি কার্যালয়ের কাছেই আনন্দমোহন কলেজ। এখানে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।’

এদিকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবককে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগের দোহাই দিয়ে পুলিশ চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যেহেতু অভিযোগ দায়ের করতে ভয় পাচ্ছে, সেহেতু সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজ ঘিরে এমন অভিযোগকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক শিক্ষার্থী ও জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক এ কে এম আরিফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘দোষীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত