Ajker Patrika

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে গুদামে ঢুকে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা, ডিলারের দাবি—‘আওয়ামী লীগের ইন্ধন’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
স্বজনপ্রীতির অভিযোগে গুদামে ঢুকে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা, ডিলারের দাবি—‘আওয়ামী লীগের ইন্ধন’
রাজিবপুর বাজারে ডিলার পয়েন্টের সামনে কৃষকদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে সারের স্লিপ বিতরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলা শহরের রাজিবপুর বাজারে ‘সফি এন্টারপ্রাইজ’ নামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

তবে গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েকুল হাসান খান জানান, কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়।

এদিকে ডিলারের শাস্তি ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার বেলা ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার রাজিবপুর বাজারের সফি এন্টারপ্রাইজ থেকে ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের কথা ছিল। এ জন্য ভোর থেকেই তাঁরা ডিলার পয়েন্টের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এর মধ্যে কয়েকজন ডিলারের বাড়ি থেকে সারের স্লিপ নিয়ে এসে সার নিতে শুরু করেন। পরে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা জানতে পারেন, ডিলার বাড়িতে বসেই স্লিপ দিচ্ছেন। এতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কিছু কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে যান।

গুদামের পাশের কয়েকজন দোকানদার বলেন, ডিলার তাঁর বাড়িতে বসে কৃষকদের স্লিপ দিচ্ছিলেন। স্লিপ নিয়ে গুদামে এসে কৃষকেরা সার নিতে শুরু করলে বাইরে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর কয়েকজন গুদামে ঢুকে সারের বস্তা নিয়ে যেতে থাকেন। তবে ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তার হিসাব ডিলারই দিতে পারবেন।

ডিলার সফি আলম বলেন, ‘আজ বিতরণের জন্য গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া ছিল। কিন্তু এর চেয়ে কয়েক শ বেশি মানুষ সারের জন্য ভিড় করছিল। পাশে আমার বাড়ি। ভিড় সামলাতে ও বিতরণের সুবিধার্থে বাড়ি থেকে কৃষকদের স্লিপ দিচ্ছিলাম। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কৃষক নামধারী কিছু ব্যক্তি স্লিপধারী কৃষকদের গুদাম থেকে সার নিতে বাধা দেয়। পরে গুদামে হামলা চালিয়ে বেশ কিছু বস্তা সার নিয়ে যায়। এর মধ্যে কিছু বস্তা ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সারের হিসাব করে জানা যাবে।’

বিশৃঙ্খলার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু লোকের ইন্ধন ছিল দাবি করে সফি আলম বলেন, ‘উসকানিদাতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি ছিল। তাদের আবাদি জমি না থাকলেও সারের জন্য ভিড়ের মধ্যে ঢুকেছিল। তারাই কিছু বস্তা নিয়ে গেছে। আমি ওসি সাহেবকে তাদের নাম বলেছি।’

সফি এন্টারপ্রাইজের মালিক সফি আলম উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

রাজিবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েকুল হাসান খান বলেন, ‘সার লুটের ঘটনা ঘটেনি। কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।’

ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষকদের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘সার লুটের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টায় সেটা করতে পারেনি। পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।’

এদিকে চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীতে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নাগেশ্বরীতেও সারের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ ও সরবরাহ করা হয়েছে এবং জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেশি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত