Ajker Patrika

খালিয়াজুরীতে হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি, প্রতিবাদে আসামিদের ফাঁসি দাবি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫১
খালিয়াজুরীতে হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি, প্রতিবাদে আসামিদের ফাঁসি দাবি
হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে এবং আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

আজ রোববার দুপুরে উপজেলার লেপসিয়া বাজার জামে মসজিদ লঞ্চঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সানোয়ার ফকির।

নিহত যুবকের নাম মো. শাহ আলমগীর (২২)। তিনি উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।

নিহতের চাচা ছাদেক আহমদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত শাহ আলমগীরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, বাবা নুরুল হক, চাকুয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মিস্টু মিয়া, প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম ও রোমান ফকির, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিগেল মিয়া ও সদস্য মো. কবীর হোসেন এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।

স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়া এবং অপর পক্ষে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, পরদিন সকালে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লিগেল মিয়ার চাচাতো ভাই শাহ আলমগীরের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত শাহ আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হলে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় লিগেল মিয়ার চাচাতো ভাই মিস্টু মিয়া বাদী হয়ে আবদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪৯ জনের নামে মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। অন্যদিকে আবদুর রহমানের পক্ষ থেকেও ৪৪ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত দুই পক্ষের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে জামিনের আবেদন করলে আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তবে এজাহারভুক্ত আসামি নুর আলম ও সবুজ বাইরে রয়েছেন।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা নুরুল হক বলেন, ‘আসামিপক্ষের লোকজন আমাদের মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি তো আর আমার ছেলেকে ফিরে পাব না, তবে যারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’

নিহতের চাচা ছাদেক আহমদ অভিযোগ করেন, আসামি নুর আলমের বাবা ফিরোজ আলী, মামুনের বাবা হারিস মিয়াসহ অন্য আসামিদের স্বজনেরা মামলা তুলে নিতে তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন।

হুমকির বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত