Ajker Patrika

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টে দুদকের অনুসন্ধান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টে দুদকের অনুসন্ধান

গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আত্মসাৎ, সেই অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবাসন প্রতিষ্ঠান সুভাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শত শত গ্রাহকের অর্থসংক্রান্ত এসব অভিযোগ যাচাই করবে সংস্থাটি।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযোগগুলো যাচাই করতে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

দুদকের মানি লন্ডারিং শাখার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সুভাস্তু ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো পর্যালোচনার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে, কোন খাতে সেই অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং অর্থের লেনদেনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ নির্ধারিত প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখবে দুদক। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, অর্থের লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ স্থানান্তরের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অভিযোগসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান ও পরিচালকদের নামে থাকা সম্পদের বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে। তাঁদের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪; দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২; এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা কিংবা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শাখাকে জানাতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুভাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক খানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। নাজমুল হক খান ফোন ধরেননি। পরে অভিযোগের বিষয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

৫ডব্লিউ যাচাই: অনুসন্ধান শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, কথিত আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের নির্দিষ্ট গন্তব্য উল্লেখ নেই।

নিরপেক্ষতা যাচাই: সুভাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত