Ajker Patrika

বাপার দক্ষতা প্রশিক্ষণ: পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাপার দক্ষতা প্রশিক্ষণ: পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে
অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) পরিচালিত দক্ষতা প্রশিক্ষণে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষকে ছাড়িয়ে গেছে। একই কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরাও যুক্ত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য দক্ষতা ত্বরান্বিত ও শক্তিশালীকরণ (অ্যাসেট) প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ (ইবিটি) কার্যক্রমে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাপার ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।

মোট প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে নারী ২৬ হাজার ৯৬ জন, পুরুষ ১৯ হাজার ৯৬০ জন। নারীর অংশগ্রহণের হার ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পুরুষের চেয়ে নারী ৬ হাজার ১৩৬ জন বেশি। অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের আওতায় ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।

কর্মসূচিতে কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিএসটিপি) এবং শিক্ষানবিশ দ্বৈত-পদ্ধতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (এডিটিপি) মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে কাজ শেখানো হচ্ছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, খাদ্য সংরক্ষণ, মোড়কজাতকরণ যন্ত্র পরিচালনা, বিক্রয় ও খুচরা বিক্রয়ের প্রশিক্ষণ নারীদের চাকরির পাশাপাশি উদ্যোগ ও আত্মকর্মসংস্থানের পথও তৈরি করতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উৎপাদনকেন্দ্র, বেকারি, মোড়কজাতকরণ, বিক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট সেবায় কাজের সুযোগ থাকায় কর্মসংস্থানের ধরনও নানা রকম।

প্রশিক্ষণ চলছে নরসিংদী, নাটোর, গাজীপুর, গোদাগাড়ী, হবিগঞ্জ, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, পাবনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। প্রশিক্ষণে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থায় উৎপাদনপ্রক্রিয়া, যন্ত্রের ব্যবহার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৮৬০ জন দক্ষতা মূল্যায়নে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের ২৮ হাজার ৮৬৫ জন দক্ষ বিবেচিত হয়েছেন; সাফল্যের হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ করা ৪৬ হাজার ৫৬ জনের সবার মূল্যায়ন এখনো হয়নি। চলমান ও সদ্য শেষ ব্যাচের যোগ্যদের মূল্যায়ন সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাপা।

বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ‘অ্যাসেট প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের কৃষি-খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আওতায় ৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দক্ষ হয়েছেন—এটি উৎসাহব্যঞ্জক। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই দক্ষতাকে বাস্তব কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত