
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি কমে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন উপজেলায় নদীতীরবর্তী জনবসতিতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় এতে কার্যকর প্রতিকার মিলছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজারহাটে তিস্তার ভাঙন কিছুটা কমলেও ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার এবং চিলমারীর চর কড়াই বরিশাল ও চর শাখাহাতিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন চলছে। গত তিন দিনে অন্তত ৮০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখনো। অনেক পরিবার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছে।
ভাঙনে ভিটাহারা চর কড়াই বরিশাল গ্রামের গৃহবধূ আদরি বেগম বলেন, “নদী আমাদের সবকিছু কাইরা নিল। একদিনে সব শেষ। বাড়িভিটা নদীর পেটে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়া কই যাবো, কই থাকবো কোন দিশা পাই না।” সরকারের কাছে পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানান তিনি।

ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হারানো আঁখি বেগম বলেন, “মাথার ওপর কোনও ঠাঁই থাকলো না। সরকারের দেওয়া ঘরে ছিলাম। নদী সেইটাও কাইরা নিল। আমরা নিঃস্ব। দশ বছরের একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আর সংসার নিয়া এখন কই যাবো, সেটাই বুঝতে পারতেছি না।”
চিলমারীর দ্বীপচর কড়াই বরিশাল এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল জানান, গত তিন দিনে ওই এলাকার একটি আবাসনের ৪০টি পরিবারসহ অন্তত ৬০টি পরিবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসেনি। সব নদীগর্ভে চলে গেছে।
রিয়াজুল বলেন, `মাত্র দেড় হাজার জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার জিও ব্যাগ প্রয়োজন, সেখানে দেড় হাজার জিও ব্যাগে ভাঙন থামে না। বরাদ্দের ৫০০ জিও ব্যাগ ভাঙন এলাকায় ফেলা হলে তা নদীগর্ভে চলে গেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবশিষ্ট ব্যাগ স্তুপ করে রাখা হয়েছে।'
একই এলাকার বাসিন্দা মেহেদী বলেন, `গত তিন দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন চলছে। এমন অবস্থা যে আধা ঘণ্টায় ২০টি বাড়ি ভেঙে গেছে। চর কড়াই বরিশালের বিশারপাড়া আশ্রয়কেন্দ্রের অর্ধশত পরিবারসহ এলাকায় প্রায় একশো পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এতোগুলো পরিবার বসতভিটা হারালো কিন্তু তাদের পুনর্বাসনে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারগুলোর বেশিরভাগ তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সাময়িকভাবে আশ্রয় নিয়ে আছে।'
এদিকে দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় এবং উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, অরুণাচল ও আসাম প্রদেশে আগামী ৫ দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ৪ জুলাই থেকে ৬ জুলাই ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে এর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারবে বলে জানিয়েছে পাউবোর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আজ দুপুরে দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি কমছে। দুধকুমার নদের পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও কমতে শুরু করেছে। তবে আজ সকাল থেকে তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে দুপুর ৩টা থেকে স্থিতিশীল রয়েছে।
বুধবার দুপুরে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে জানায়, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কমেছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি স্থিতিশীল থেকে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা-সংলগ্ন নদীর নিম্নাঞ্চলের কোন কোন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, `নদ-নদীর পানি কমছে। সব নদীতেই ভাঙন রয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনবসতিপূর্ণ এলাকা গুরুত্ব দিয়ে প্রতিরক্ষা কাজ চলমান রয়েছে।'

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় যাঁরা লোকজন ও ভারী যন্ত্রপাতি ভাড়া করতে অর্থায়ন করেছেন এবং ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত প্রায় ৪০ জনের একটি তালিকা করেছে।
১৬ মিনিট আগে
সাজানো-গোছানো সংসার ছিল ক্ষুদিরাম-চিত্রা বিশ্বাস দম্পতির। ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে স্বপ্নের বসতভিটা—সবই এখন পানির নিচে। নিজের ঘর ছেড়ে গৃহপালিত পশু সঙ্গে নিয়ে এই সড়কের পাশেই আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। এক-দুই দিন নয়, দীর্ঘ চার মাস এভাবেই কাটছে তাঁদের যাযাবর জীবন।
৩৭ মিনিট আগে
আইন অনুযায়ী, ওয়াসা বোর্ডের সদস্যের বাইরে কেউ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। তবে এই আইনের তোয়াক্কা না করেই চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া। ওয়াসার জমি বন্ধ রেখে ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে।
৮ ঘণ্টা আগে
ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৯টা। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের সারবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করান প্রধান শিক্ষক। পরে শুরু হলো প্রাত্যহিক সমাবেশ। শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শারীরিক কসরতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই পর্ব। এরপর শিক্ষার্থীরা আবার সারবদ্ধভাবে যার যার শ্রেণিকক্ষে চলে যায়।
৮ ঘণ্টা আগে