Ajker Patrika

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ৪২
সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে’ সাঁতার কাটতে নেমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)। তাঁর পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তবে তাঁর পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠী ফায়াজ নবী বলেন, ‘আমরা তিন বন্ধু নিয়মিতই সেখানে সাঁতার কাটতে যেতাম। আজ প্রিয়মও আমাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলে এবং আমাদের জানায়, সে সাঁতার জানে। আমাদের বিকেল ৫টার দিকে সাঁতার কাটা শুরু হয়। সাঁতার কাটতে নেমে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর পানিতে যায়, আবার ফিরেও আসে। আমরা সকলে যখন সাঁতারে ব্যস্ত ছিলাম, তখন সে কখন আবারও ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যায়, তা আমরা কেউই খেয়াল করিনি। হঠাৎ ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে ৯ ফুট গভীর পানি থেকে সুইমিংপুলের স্টাফরা তোলেন। তৎক্ষণাৎ শরীরে ঝাঁকুনি দেন। তখন সে বমি করে। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে তার ইসিজি করা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, ‘আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন। আমাদের এখানকার এক কর্মী তাকে পানির কিছুটা নিচে চিত হয়ে ভেসে থাকতে দেখে আমাকে জানালে, আমি তাকে উদ্ধার করে ঝাঁকুনি দিতে থাকি। তখন সে বমি করে এবং হালকা নিশ্বাসও নিচ্ছিল। পরে তাকে সিএনজিতে করে নগরীর দরগাহ গেট-সংলগ্ন নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা আসছে। আপাতত তার মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।’

প্রক্টর আরও বলেন, সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেটের বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান। পরে ডুবন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত