Ajker Patrika

মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আলিফের মরদেহ ফিরল বাড়িতে

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১৭
মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আলিফের মরদেহ ফিরল বাড়িতে
ইউসুফ হাসান আলিফ। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ২৭ বছর বয়সের টগবগে তরুণ। কত স্বপ্ন ছিল জীবনে, কত কিছু করার ছিল। কিন্তু কিছুই হলো না। স্বপ্ন, সাধ, আশা সবসহ বিদেশে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্পেনের মাদ্রিদ থেকে আজ শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে বাদ জুমা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

নিহত আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারের সুদিন ফেরানোর আশায় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ২৯ লাখ টাকা খরচ করে গত জুন মাসে তাঁকে স্পেনে পাঠান বাবা।

মাদ্রিদের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করতেন আলিফ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সম্প্রতি তিনি স্পেনে কাজের বৈধ অনুমতিপত্র পান। অনুমতিপত্র পাওয়ার দুই দিনের মাথায় অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের ওই গ্যারেজে ফুড ডেলিভারির সাইকেল নিতে যান আলিফ। সে সময় একটি বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে গ্যারেজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনে আলিফসহ তিন সহকর্মী আটকা পড়েন। মৃত্যুর আগমুহূর্তে দম বন্ধ হয়ে আসার সময় সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলিফের পাঠানো শেষ বার্তা ছিল, ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’

ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও আলিফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দগ্ধ অপর দুই সহকর্মী আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আলিফের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে ছেলের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে বাবা আব্দুল মোতালিব কফিন বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আব্দুল মোতালিব বলেন, ‘ঘটনার দিন ৩০ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ছেলের সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিল। সে জানিয়েছিল, সামনের ঈদ আমাদের সাথে বাড়িতে করবে। মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছিল। আধা ঘণ্টা ডিউটি বাকি আছে জানিয়ে সে বলেছিল ডিউটি শেষ করেই আবার ফোন দেবে। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি, এল আমার ছেলের নিথর দেহ।’

সকালে মরদেহ উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রবাসে আলিফের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোক নেমে এসেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত