Ajker Patrika

সোনারগাঁয়ে মার্স ফিড কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকের জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটের অভিযোগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সোনারগাঁয়ে মার্স ফিড কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকের জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটের অভিযোগ
কৃষকের জমিতে বালু ভরাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মার্স ফিড নামের একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষকের জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় এক যুবদল নেতা কোম্পানির পক্ষ নিয়ে জমিতে ও বাড়িঘরে বালু ফেলছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বৈদ্যেরবাজার নদীর ঘাট এলাকায় অবস্থিত মাছের খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান মার্স ফিড কোম্পানি সম্প্রতি তাদের কারখানার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। কোম্পানিটি ওই ইউনিয়নের রামগঞ্জ এলাকার কয়েক কৃষকের জমিতে কোনো ধরনের লিখিত অনুমতি বা সমঝোতা ছাড়াই জোরপূর্বকভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাট ও দখল করে নেয়। কোম্পানির পক্ষ নিয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে ইয়াছিন নোবেল এই বালু ভরাট করেন। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও কোনো ফল পাননি বলে জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রামগঞ্জ গ্রামের হেলাল উদ্দীন জানান, তাঁদের পরিবারের ১৬ শতাংশ জমি মার্স ফিড কোম্পানির পক্ষ নিয়ে যুবদল নেতা নুরে ইয়াছিন নোবেল জোরপূর্বক বালু ভরাট করেছেন। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা হয়নি। বাধা দিলে উল্টো তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি এবং হামলা মামলার ভয় দেখানো হয়।

রামগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী মানু বেগম বলেন, ‘জোরপূর্বক বালু ভরাট করে আমাদের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে। আমরা খুবই কষ্টে দিন যাপন করছি। আমরা এর সমাধান চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে কৃষকদের জমি রক্ষা করা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে ইয়াছিন নোবেল জানান, কোম্পানি তাদের ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করছে। যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁদের জমি নদীগর্ভে আগেই বিলীন হয়ে গেছে। কোনো কৃষকের জমি জোরপূর্বক ভরাটের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

মার্স ফিড লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ৩০ বিঘা জমি কিনেছি। মাত্র ৩ বিঘা জমিতে বালু ভরাট করেছি। গ্রামবাসীরাই আমাদের জমি দখল করে ভোগ করছে।’

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত