Ajker Patrika

বরিশালে পুলিশের সামনে লাথি মেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে পুলিশের সামনে লাথি মেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে সালিস চলাকালে পুলিশের সামনে খোরশেদ শিকদার (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে লাথি মেরে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

রোববার বিকেলে পৌরসভার ১ নম্বর চরহোগলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনেরা এ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন।

নিহতের ভাতিজি সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমার চাচা ২৪ বছর আগে বিল্ডিং করেছেন। ওই বিল্ডিং নিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা পায় এলাকার ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হাওলাদার। এ নিয়ে রোববার বিকেলে পুলিশের উপস্থিতিতে বিচার সালিস বসে। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দুই দিনের মধ্যে চাচাকে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। কিন্তু তিনি (চাচা) বলেন কোরবানির ঈদের আগে টাকা দিতে পারবেন না।

‘এ সময় জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে নাঈম চাচাকে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি ভিডিও করাকালে ওনার মেজ ছেলে জাফর আমাকে থাপ্পড় মারে। সে আমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। আমার বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে আমার চাচা খোরশেদ শিকদার এগিয়ে এলে নাইম, জাফর তার গোপনাঙ্গে লাথি মারে। এ সময় তিনি পড়ে গেলে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা চাচাকে পিটিয়ে ও লাথি মেরে হত্যা করে।’ তিনি বলেন, ‘একটা মানুষকে প্রশাসনের সামনে খুন করে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

নিহতের চাচাতো ভাই মো. জামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কাছে বিল্ডিং করার জন্য ঠিকাদার জাহাঙ্গীর টাকা দাবি করে আসছিলেন। ওই ঘটনায় তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। প্রশাসনের সামনে আমার ভাইকে কী করে মারধর করল, আমি জানতে চাই।’

এদিকে হামলায় সিরাজুল ইসলাম (৫১), মোকসেদ সিকদার (২২), রকিব সিকদার (২৬) ও সানজিদা আক্তার (২২) নামে চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। তিনি স্বীকার করেন সালিসের মতো কিছু হচ্ছিল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক সদস্য ছিলেন। তবে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবে বলে জানান পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। মেহেন্দীগঞ্জের ওসিকে পাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘উনি হয়তো অভিযানে আছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ওঠা বাস আধা কিমি টেনে নিয়ে গেল ট্রেন, নিহত ১২

‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো?’

হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সমুদ্রপৃষ্ঠে অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের চমক পানির নিচে

ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: যে কোম্পানির বাস চালান পিন্টু, সেটির বাসেই প্রাণ গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ের

জীবননগরে শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত