
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে জোর প্রচার চলছে।
এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি বিএনপির এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী দলটির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন। তবে এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। দলটির নেতা-কর্মীদের দাবি, কুষ্টিয়া-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট কারচুপির কারণে আসনটি হাতছাড়া হলেও এবার তা পুনরুদ্ধারে দলটি সাংগঠনিকভাবে কাজ করছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
ভোটার ও কেন্দ্রের তথ্য
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বৃহৎ উপজেলা দৌলতপুরকে নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন। একদিকে সীমান্ত, অন্যদিকে পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল—ভৌগোলিকভাবে আসনটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৭০, নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ৩ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ ভোটার রয়েছেন ৬২ হাজার ৯১৯ জন। মোট ১৩৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৪৭টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস
কুষ্টিয়া-১ আসনে অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসানুল হক মোল্লা বিজয়ী হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফায উদ্দিন আহমেদ জয়ী হন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রেজাউল হক চৌধুরী নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও রেজাউল হক চৌধুরী জয়ী হন।
প্রার্থী ও প্রতীক
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (বিএনপি), দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দিন (জামায়াতে ইসলামী), মোটরসাইকেল প্রতীকে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (স্বতন্ত্র), লাঙ্গল প্রতীকে শাহরিয়ার জামিল (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা প্রতীকে আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ট্রাক প্রতীকে শাহাবুল ইসলাম (গণঅধিকার পরিষদ), মোমবাতি প্রতীকে বদিরুজ্জামান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং তারা প্রতীকে গিয়াস উদ্দিন (জেএসডি)।
উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা সীমান্ত অপরাধ দমন, পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। বিপুল জনসমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমরা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত দৌলতপুর গড়তে চাই।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দিন নতুন নেতৃত্ব ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা বলেন, ‘আমি ধানের শীষের বিরুদ্ধে নই, আমি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি।’
ভোটের সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিএনপির প্রার্থী বাচ্চু মোল্লা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী।
তরুণ ভোটাররা জানিয়েছেন, যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বিবেচনা করেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
নির্বাচন ঘিরে দৌলতপুর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬টি গুলি, ১১টি ম্যাগাজিন ও একটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালান রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নাশকতা বা আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কায় রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৫-এর রাজশাহী সিপিএসসির একটি দল এ অভিযান চালায়।
৮ মিনিট আগে
বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা–মোরেলগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র (হরিণ প্রতীক) প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশি একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রঞ্জু ও রাকিবুল নামের দুই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসের টেবিলের ওপর রাখা কাপড় ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের একটি ব্যানার আগুনে পুড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
২ ঘণ্টা আগে