
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওয়াদুদ মিয়া ওরফে বাবু নামের এক যুবককে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে তাঁকে জমির ভুয়া নামজারি (খারিজ) কপি ও ডিসিআর রসিদ তৈরির অভিযোগে আটক করেছিল পুলিশ। অভিযোগ পরিবর্তন করে দণ্ড দেওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসি ল্যান্ড) এম এ কাদেরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগের পরিবর্তে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ড দেওয়ায় বিষয়টিকে হালকা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, জাল কাগজ তৈরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত ছিল। মূল অভিযোগ আড়াল করে ভিন্ন ধারায় স্বল্পমেয়াদি সাজা দেওয়ায় অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াদুদ মিয়া (২৪) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের সাতুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে। উপজেলা পরিষদের ভেতরে তাঁর একটি কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। সেখানে জমির নামজারি আবেদনসহ অনলাইনের বিভিন্ন কাজ করেন তিনি।
স্থানীয় ভূমি অফিস, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাগডরা এলাকার মাহবুব মিয়া তাঁর কেনা পাঁচ শতাংশ জমি নামজারি করার জন্য কিছুদিন আগে ওয়াদুদকে দায়িত্ব দেন। এ জন্য নির্ধারিত টাকাও তাঁকে দেওয়া হয়। পরে মাহবুবকে জমির নামজারির কপি ও ডিসিআর রসিদ দেন ওয়াদুদ।
গত সোমবার দুপুরে মাহবুব ভূমি উন্নয়ন কর দিতে ওই কাগজপত্র বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পাঠান। সেখানে কাগজপত্র যাচাই করে নামজারি কপি ও ডিসিআর রসিদ জাল বলে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি এসি ল্যান্ড এম এ কাদেরকে জানানো হলে সন্ধ্যায় ওয়াদুদকে আটক করে পুলিশ।
পরে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬ ধারায় ওয়াদুদকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন এসি ল্যান্ড। রায়ের কপিতে বলা হয়েছে, ‘ভুয়া ডিসিআর ও খারিজ কপি দাখিলের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করার মাধ্যমে সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধা’ দেওয়ার দায়ে তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়।
বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মান্নু রায়হান বলেন, এক ব্যক্তি জাল খারিজ কপি ও ডিসিআর রসিদ নিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে এলে যাচাই করে সেগুলো জাল প্রমাণিত হয়। বিষয়টি এসি ল্যান্ডকে জানানো হয় এবং কম্পিউটার দোকানি ওয়াদুদ এসব কাগজ তৈরি করেছেন বলে জানা যায়। পরে তাঁকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড দেওয়া হয়।
মান্নু রায়হান আরও বলেন, ‘আমি বাদী হয়ে মামলা করলে আরও বেশি সাজা হতো।’
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় এসি ল্যান্ডের সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নাজির কাম ক্যাশিয়ার সজল সরকার বলেন, জাল খারিজ ও ডিসিআর রসিদ তৈরি করে সরবরাহ করার কারণেই কম্পিউটার দোকানি ওয়াদুদকে আটক করা হয়।
তবে ভুয়া কাগজ তৈরির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় সাজা দেওয়া হলো— এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড এম এ কাদের বলেন, ‘ভুয়া ডকুমেন্ট আমি কীভাবে ট্রিট করব, সেটাই বিষয়। মূলত ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে আমার কাজে বাধা দিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে যদি তার বিচার করতে চাই, তাহলে এই প্রসেসেই আগাতে হবে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার না করে যদি তার বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা দিতে চাই, সেটা আমার হাতে থাকবে না। তাহলে অন্য কোনো ব্যবস্থায় যেতে হতো।’
এসি ল্যান্ড আরও বলেন, ‘জালিয়াতির বিষয়টি আমাদের মোবাইল কোর্ট করে বিচার করার সুযোগ নেই। কিছু দণ্ড আছে, যা আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে দিতে হয়। এটাও এ রকমই।’
এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মোবাইল কোর্ট মূলত যে দোষ স্বীকার করেন, তাঁকেই দণ্ড দেন। দোষ স্বীকার না করলে মোবাইল কোর্টে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।
ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, যদি কেউ ভুয়া কাগজ তৈরি করে, এটি একটি জালিয়াতির ঘটনা। এর সঙ্গে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা, অর্থাৎ সরকারি কাজে বাধা—এটি যায় না। ভুয়া কাগজ তৈরি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
মামলার রায়ের কপি দেখানো হলে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, যদি জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কাগজ তৈরি করার বিষয়টি আসে, এই ক্ষেত্রে ১৮৬ ধারার আইন প্রয়োগ হওয়ার কথা নয়। তবে রায়ের বিস্তারিত কপিতে কী লেখা আছে, তা দেখতে হবে।

বাড়ি থেকে একের পর এক বিষধর সাপ উদ্ধার, সে সঙ্গে ঘুমের ঘোরে বারবার সাপের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের। উপায়ান্তর না দেখে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে প্রায় দেড় বছর আগে মানত করেছিলেন, বাড়িতে ‘পদ্মাপুরাণ’ গানের আসর বসাবেন।
৩৮ মিনিট আগে
‘এই চক্রকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি সরকারি প্রশাসনের ওপরও হুমকি আসে।’
৪২ মিনিট আগে
ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে মুন্নি বেগম ও প্রেমিক মাহাবুল মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে নুরুল ইসলামকে প্রেমিক মাহাবুবকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেন মুন্নি বেগম।
১ ঘণ্টা আগে
গাড়িচালক লেখেন, ‘আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি অর কফিশপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে।’
১ ঘণ্টা আগে