
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অর্থাভাবে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হিয়া মনির চিকিৎসা থমকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় স্কুলেও যেতে পারছে না তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে ফিরতে চায় ছোট্ট হিয়া।
হিয়া মনির বাবা হরি মহন্ত পেশায় একজন চা-বিক্রেতা। তাঁর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি একমাত্র মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে তাকে সুস্থ করে তুলতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন হিয়ার পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও শিক্ষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হিয়াদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। অন্যের বাড়ির দুটি দেয়ালের মাঝ দিয়ে কোনোমতে যেতে হয় তাঁদের বসতবাড়িতে। সোয়া তিন শতাংশ জমির ওপর টিনের বেড়া ও চাল দিয়ে তৈরি একটি ছোট ঘর। সংস্কারের অভাবে ঘরের বেড়া খুলে যাচ্ছে। চালের বিভিন্ন অংশও নষ্ট হয়ে গেছে। ছিদ্র দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে বিছানা সরিয়ে জায়গা করে নিতে হয়।
ঘরের একপাশে পুরোনো কাপড় ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা একটি টয়লেট। অন্যপাশে একটি নলকূপ। সেই ছোট ঘরের বিছানায় অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছে হিয়া। পাশে কপালে হাত দিয়ে বসে ছিলেন তার মা বিউটি রানী।
হিয়ার বাবা হরি মহন্তের সঙ্গে দেখা মেলে উপজেলা পরিষদ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে তাঁর চায়ের দোকানে। সরকারি জায়গায় পলিথিন দিয়ে তৈরি নামেমাত্র একটি দোকান। চায়ের কেটলিতে তখন আগুন জ্বলছিল। সামনে কয়েকটি কাপ ও গ্লাস। একটি টেবিল ও জোড়াতালি দেওয়া দুটি বেঞ্চ। কয়েকজন ক্রেতা বসে চা খাচ্ছিলেন। খাবারের মধ্যে ছিল কয়েক ধরনের বিস্কুট ও ছোট কেক। দোকানের এই সামান্য আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয় হরি মহন্তকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হরি মহন্ত ও বিউটি রানী দম্পতির একমাত্র সন্তান হিয়া মনি। সে সুন্দরগঞ্জ শহীদ মিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় দুই বছর ধরে অসুস্থ হিয়া। প্রথম দিকে স্থানীয় কয়েকজন চিকিৎসককে দেখানো হলেও জ্বর ও বমি কমেনি। প্রায় ছয় মাস আগে তাকে রংপুরে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়। পরে তাঁর পরামর্শে নিউরো বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয় হিয়াকে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে হিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু মেয়েকে বাঁচানোর ইচ্ছা থাকলেও চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই পরিবারের। ফলে বাড়ির বিছানায় শুয়েই দিন কাটছে হিয়ার।
ক্ষীণ কণ্ঠে হিয়া মনি বলে, ‘আমার মাথায় যন্ত্রণা হয়। মাথা কামড়াকামড়ি করে। হাঁটতে পারি না। চোখে ঝাপসা দেখি। খেতে পারি না। আমি আবার স্কুলে যেতে চাই। আমি বাঁচতে চাই।’
হিয়ার মা বিউটি রানী বলেন, ‘রংপুরের ডাক্তার বলেছেন, মেয়ের মাথায় টিউমার হয়েছে। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। এত টাকা কোথায় পাব আমরা?’ মেয়েকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
হিয়ার বাবা হরি মহন্ত বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে মেয়ে অসুস্থ। স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখিয়েছিলাম, কিন্তু সুস্থ হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে রংপুরে বড় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। তাঁদের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা হয়, ব্রেইন টিউমার হয়েছে। এখন ঢাকায় চিকিৎসা করাতে হবে। এতে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। এত টাকা কোথায় পাব? চিকিৎসা করাতে না পেরে মেয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। দিন দিন মেয়েটা মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’
কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন হরি মহন্ত।
প্রতিবেশী মো. সাব্বির হোসেন নিয়ন বলেন, ‘বাচ্চা মেয়েটি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। রংপুরে চিকিৎসা করানোর সময় আমরা সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এখন তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। হরির ছোট্ট চায়ের দোকান দিয়ে সংসারের খরচই ঠিকমতো চলে না। তাই মেয়েটির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’
হিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলা কান্ত বসুনিয়া বলেন, ‘হিয়া মনি এ স্কুলে পড়াশোনা করত। সে অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মিষ্টি স্বভাবের একটি মেয়ে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে কিছু টাকা দিয়েছিলাম। শুনেছি এবার তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। প্রিয় শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে সবার আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব কুমার বাগচী বলেন, ‘এখনো বরাদ্দ আসেনি। তাঁকে আবেদন করতে বলেছি। বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তাঁকে আবেদন করতে বলেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমানের পরিবর্তনে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া...
২ মিনিট আগে
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই টাকাডা আছিল আমার শেষ সম্বল। স্বামী নাই, কামকাজও নাই। মেয়েগো বিয়া দিছি অনেক কষ্টে। দশ বছর ধরে একটু একটু কইরা টাকা জমাইছি। ভাবছিলাম, বিপদের সময় এই টাকাডা কাজে লাগামু। অহন সব শেষ হইয়া গেল। অহন আমি কী করমু?’
২৭ মিনিট আগে
মেয়েকে বিয়ে দিবেন বলে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে বাসে করে গাজীপুরে ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৩৩ মিনিট আগে
প্রথম দফায় যেসব ইউনিয়ন কৃষিকার্ডের আওতায় আসছে, সেগুলো হলো রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ...
৩৪ মিনিট আগে