Ajker Patrika

ফরিদপুর-৪ আসন

জামায়াত জোটে বিভক্তি বিএনপির পাশে আ.লীগ

  • নিক্সন ও জাফর উল্যাহর অনুসারী অন্তত ৫০ নেতা বিএনপির প্রার্থীর পাশে।
  • সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত স্বতন্ত্র মুজাহিদ বেগও আলোচনায়।
হাসান মাতুব্বর, ফরিদপুর
জামায়াত জোটে বিভক্তি বিএনপির পাশে আ.লীগ
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে চারটি আসনে নির্বাচনী প্রচার জমে উঠেছে। তবে নির্বাচনী হিসাবনিকাশে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ফরিদপুর-৪ আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট আসনটি উন্মুক্ত রাখায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভোট টানতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশে টানছেন বিএনপির প্রার্থী। আর সামাজিক বিভিন্ন কাজ করে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিও রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এলাকাবাসীর মতে, এই আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী।

চরবেষ্টিত দুটি উপজেলা সদরপুর ও চরভদ্রাসন এবং ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসন। বিগত দিনে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর দখলে ছিল। শুধু ২০০২ সালে উপনির্বাচনে একবার বিএনপির প্রার্থী জিতেছিল। তবে অভ্যুত্থানের পর আসনটির নির্বাচনী হিসাবনিকাশ বদলে গেছে।

আসনটি থেকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজাহিদ বেগ (ফুটবল) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যার (রিক্সা) সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে সাধারণ ভোটাররা মন্তব্য করেন। এ ছাড়া এরপরই অবস্থান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সরোয়ার হোসেনের। জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের যেকোনো একজন সরে দাঁড়ালেও জামায়াত জোটের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই প্রার্থীরা ছাড়াও ফরিদপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসহাক চোকদার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আতাউর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মুহাম্মদ মজিবুর হুসাইন।

এ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সদরপুর উপজেলায় অবস্থান করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকায় কৌশল পরিবর্তন করে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীদের। এ কারণে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী ও কাজী জাফর উল্যাহর আস্থাভাজনেরা তাঁর দলে ভিড়েছেন মূলত মামলা ও গ্রেপ্তার এড়াতে; যাঁদের প্রত্যেকে প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০-এর বেশি নিক্সন ও কাজী জাফর উল্যাহ-সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতারা রয়েছেন।

ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় খন্দকার জাহিদ নামের এক চা দোকানির সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁর ভাষ্য, বিগত দিনে কাজী জাফর উল্যাহকে ভোট দিলেও এবার ধানের শীষে ভোট দেবেন।

বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এখানে আট প্রার্থী রয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের জন্য আমি যেভাবে লড়াই করেছি এবং যে পরিমাণ নিপীড়নের শিকার হয়েছি, অন্য কেউ তাঁর ধারের কাছে কিঞ্চিৎ পরিমাণও হয়নি। ১২৮ বার জেলে গিয়েছি, জুলুমের শিকার হয়েছি নিজের জন্য না, দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।’

এই আসনে বেশ আলোচনায় আছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজাহিদ বেগ। তিনি চরভদ্রাসন উপজেলার বেগ পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন যাবৎ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ ক্রীড়া জগতে পরিচিতি রয়েছে পরিবারটির।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। লেভেল প্লেয়িং মাঠ থাকলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। তবে তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন উপজেলার ভোটারদের মধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তারে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমার নির্বাচনে সবচেয়ে কাছের লোকের নামেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

এই আসনে জোরেশোরে প্রচারে আছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্যাও। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এই নেতাও ভোটের মাঠে পিছিয়ে নেই। তবে মূল বাধা হয়েছে জামায়াত জোটের অমীমাংসিত প্রার্থী নিয়ে। এসব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা এ সমস্যাকে চূড়ান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করি, আমাদের জোটের যেকোনো একজনকে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত