Ajker Patrika

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিপুল লেনদেনের অভিযোগ, ভাটারার সেই ওসিকে বদলি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিপুল লেনদেনের অভিযোগ, ভাটারার সেই ওসিকে বদলি
ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক। ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হককে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়।

আদেশে বলা হয়, ওসি ইমাদুল হককে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানা থেকে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি ওসি ইমাউল হকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি এক প্রবাসী সাংবাদিক এই অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন হয়েছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে তাঁর বিকাশ ও নগদ হিসাবে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। এই টাকা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়। ওসি তাঁর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়াতেও ব্যয় করেছেন বলে ওই সাংবাদিক দাবি করেন।

সে সময় অভিযোগের বিষয়ে ওসি ইমাউল দাবি করেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই। তাঁর মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাউল হক আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গত মাসে এসব তথ্য সামনে আসলে আরও জানা যায়, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট দোকান থেকে গত দুই মাসে ওসির নম্বরে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই থানাতেই কর্মরত কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা। এ ছাড়া নাসিম নামে এক বাড়িওয়ালার নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং খালেক নামে এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা পাঠানো হয়েছে।

আবার ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে নিবন্ধিত একটি নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নামে আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত