আবুল আহসান টিটু, ফকিরহাট (বাগেরহাট)

দোতালা ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে বসে রয়েছেন ফার্মাসিস্ট মোল্লা মনিরুজ্জামান। তাঁর কাছেই বিভিন্ন বয়সী রোগীরা আসছেন চিকিৎসা নিতে। উপসর্গ শুনে রোগীদের জন্য নিজেই ওষুধ লিখে দিচ্ছেন মনিরুজ্জামান। ভবনে চিকিৎসক, নার্সদের কক্ষগুলো তালা দেওয়া। সম্প্রতি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল টাউন নওয়াপাড়ার সরকারি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নওয়াপাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অচল অবস্থা চলছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। ধাত্রী নার্সের (মিডওয়াইফ) পদে একজন থাকলেও যোগদানের পর থেকেই তিনি অন্যত্র সংযুক্ত। পুরো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলছে একজন মাত্র ফার্মাসিস্টের ওপর নির্ভর করে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের সরকারি ওষুধ সরবরাহ করার কথা ফার্মাসিস্টের। অথচ এখানে ফার্মাসিস্টই রোগী দেখেন, আবার ওষুধও বুঝিয়ে দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখার কাজও করেন তিনি। চিকিৎসকের বদলে ফার্মাসিস্ট রোগী দেখায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সহকারী সার্জন পদটি শূন্য। এরপর ধীরে ধীরে শূন্য হয়েছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, এমএলএসএস, এফডব্লিউভি ও আয়া পদও। কাগজ-কলমে সাতটি পদের কেন্দ্রটি বাস্তবে এখন একক জনবলের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০ ধরনের সরকারি ওষুধ সরবরাহ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় তা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে না। রোগ নির্ণয় ছাড়াই শুধু উপসর্গ দেখে সাধারণ কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রটিতে কর্মরত ধাত্রী নার্স নূপুর খানম যোগদানের পর থেকেই ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত রয়েছেন। ফলে অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ধাত্রীসেবা কার্যত বন্ধ। সপ্তাহে মাত্র এক দিন (মঙ্গলবার) উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন নার্স এসে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চেকআপ করেন বলে জানা গেছে।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এখানে। শিল্পাঞ্চল ও শ্রমজীবী মানুষের বসতি পিলজংগ, বেতাগা, শুভদিয়া, লখপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের প্রধান ভরসা এ কেন্দ্রটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় বেশির ভাগ রোগীই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এমন বেহাল অবস্থা চলছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম, জ্যোৎস্না খাতুনসহ একাধিক নারী রোগী বলেন, ‘মেয়েলি সমস্যার কথা পুরুষ ফার্মাসিস্টকে বলতে লজ্জা লাগে। তিনি ডাক্তারও না। ভুল ওষুধ দিলে কী হবে, সেই ভয়ও কাজ করে। কিন্তু টাকা না থাকায় বাইরে চিকিৎসাও করাতে পারছি না।’
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন ৬০-৭০ জন রোগী আসেন। জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যায় ওষুধ দিতে পারি। কিন্তু জটিল রোগে কিছুই করার থাকে না। জনবল না থাকায় চাপটা আমাকে একাই সামলাতে হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জনবল সংকট রয়েছে। সরকার যদি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল দেয়, তাহলে সেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব।

দোতালা ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে বসে রয়েছেন ফার্মাসিস্ট মোল্লা মনিরুজ্জামান। তাঁর কাছেই বিভিন্ন বয়সী রোগীরা আসছেন চিকিৎসা নিতে। উপসর্গ শুনে রোগীদের জন্য নিজেই ওষুধ লিখে দিচ্ছেন মনিরুজ্জামান। ভবনে চিকিৎসক, নার্সদের কক্ষগুলো তালা দেওয়া। সম্প্রতি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল টাউন নওয়াপাড়ার সরকারি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নওয়াপাড়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অচল অবস্থা চলছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। ধাত্রী নার্সের (মিডওয়াইফ) পদে একজন থাকলেও যোগদানের পর থেকেই তিনি অন্যত্র সংযুক্ত। পুরো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলছে একজন মাত্র ফার্মাসিস্টের ওপর নির্ভর করে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের সরকারি ওষুধ সরবরাহ করার কথা ফার্মাসিস্টের। অথচ এখানে ফার্মাসিস্টই রোগী দেখেন, আবার ওষুধও বুঝিয়ে দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখার কাজও করেন তিনি। চিকিৎসকের বদলে ফার্মাসিস্ট রোগী দেখায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সহকারী সার্জন পদটি শূন্য। এরপর ধীরে ধীরে শূন্য হয়েছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, এমএলএসএস, এফডব্লিউভি ও আয়া পদও। কাগজ-কলমে সাতটি পদের কেন্দ্রটি বাস্তবে এখন একক জনবলের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০ ধরনের সরকারি ওষুধ সরবরাহ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় তা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে না। রোগ নির্ণয় ছাড়াই শুধু উপসর্গ দেখে সাধারণ কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রটিতে কর্মরত ধাত্রী নার্স নূপুর খানম যোগদানের পর থেকেই ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত রয়েছেন। ফলে অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ধাত্রীসেবা কার্যত বন্ধ। সপ্তাহে মাত্র এক দিন (মঙ্গলবার) উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে একজন নার্স এসে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চেকআপ করেন বলে জানা গেছে।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এখানে। শিল্পাঞ্চল ও শ্রমজীবী মানুষের বসতি পিলজংগ, বেতাগা, শুভদিয়া, লখপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের প্রধান ভরসা এ কেন্দ্রটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় বেশির ভাগ রোগীই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এমন বেহাল অবস্থা চলছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম, জ্যোৎস্না খাতুনসহ একাধিক নারী রোগী বলেন, ‘মেয়েলি সমস্যার কথা পুরুষ ফার্মাসিস্টকে বলতে লজ্জা লাগে। তিনি ডাক্তারও না। ভুল ওষুধ দিলে কী হবে, সেই ভয়ও কাজ করে। কিন্তু টাকা না থাকায় বাইরে চিকিৎসাও করাতে পারছি না।’
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন ৬০-৭০ জন রোগী আসেন। জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সমস্যায় ওষুধ দিতে পারি। কিন্তু জটিল রোগে কিছুই করার থাকে না। জনবল না থাকায় চাপটা আমাকে একাই সামলাতে হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জনবল সংকট রয়েছে। সরকার যদি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল দেয়, তাহলে সেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
৭ মিনিট আগে
রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডার ফুজি টাওয়ার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তাঁরা। এ সময় কুড়িল থেকে রামপুরা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
৯ মিনিট আগে
পাইকের বাড়ি গ্রামের কলেজছাত্রী পান্না বাড়ৈ জানান, ওই পাঁচ নারী রোববার ভোরে দিনমজুরের কাজ করতে মাদারীপুরে যান। কাজ শেষে ইজিবাইকে করে ফেরার পথে ঘটকচর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁরা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
৩১ মিনিট আগে
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিস্ফোরক মামলায় স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্বরূপকাঠি পৌর যুবলীগের সভাপতি শিশির কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে নেছারাবাদ উপজেলার পান হাটখোলা এলাকার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে নেছারাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
১ ঘণ্টা আগে