Ajker Patrika

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ০২
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছর কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির এক মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার, আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।

মামলার রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার ( অর্থ আত্মসাৎ) অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতি ধারায় তাঁদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁদেরও উভয় ধারায় সাত বছর করে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেক আসামির ক্ষেত্রে উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। সে ক্ষেত্রে আসামিদের সাত বছর কারা ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার (প্রতারণা) অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩—এই দুই প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত