Ajker Patrika

দস্যু ঝুঁকি নিয়েই সুন্দরবনে যাচ্ছেন আজ মৌয়ালেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
দস্যু ঝুঁকি নিয়েই সুন্দরবনে যাচ্ছেন আজ মৌয়ালেরা
ফাইল ছবি

প্রস্তুতি শেষ; এবার সুন্দরবন যাত্রার পালা মৌয়ালদের। তবে এই যাত্রায় আনন্দের চেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাই বেশি। বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই আজ বুধবার থেকে মধু আহরণে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, মধু আহরণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনাঞ্চলে অতিরিক্ত ক্যাম্প স্থাপন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মধু সংগ্রহ মৌসুম। চলবে টানা দুই মাস। এ সময়কে ঘিরে সরকারি প্রস্তুতি ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বেড়েছে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে মধু আহরণের অভিযোগ।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মধু সংগ্রহ হয়েছিল ৮৫৪ দশমিক ৫ কুইন্টাল এবং মোম ২৭৫ দশমিক ৫ কুইন্টাল। তখন ২৪৮টি পাসের মাধ্যমে ১ হাজার ৭০৯ জন মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছিলেন। এবারও দলবদ্ধভাবে মৌয়ালেরা গভীর বনে প্রবেশ করবেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১২ জনের দল নিয়ে তাঁরা প্রস্তুত। নির্ধারিত সময়েই পাস নিয়ে বনে যাবেন। তাঁর অভিযোগ, সুন্দরবনে এখন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনদস্যু চক্র।

মোতাহার উদ্দিন নামের এক মৌয়াল জানান, বনে যাওয়ার আগেই প্রতি মৌয়ালের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক গ্রুপকে আলাদা করে টাকা দিতে হচ্ছে।

শ্যামনগরের হরিনগরের মৌয়াল আলমগীর হোসেন বলেন, বাঘ-কুমির ভয় পাইনি কখনো। কিন্তু এখন ডাকাতের ভয় নিয়ে যেতে হচ্ছে।

একই গ্রামের আজগর আলী গাজী জানান, গতবার সাতজনের দল ছিল। কিন্তু এবার কেউই যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

মৌসুম শুরুর আগেই অবৈধভাবে মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন মৌয়ালেরা। তাঁদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে বনে প্রবেশ করে অপরিপক্ব মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা পাইকারি বাজারে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে মধু বিক্রি করছেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, মৌসুম শুরু উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবার প্রথমবারের মতো এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মৌয়ালদের পাস দেওয়া হবে।

বন বিভাগ আশাবাদী অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে, যা সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াবে এবং হাজারো মৌয়াল পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, যদি দস্যুতা, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ আহরণ বন্ধ না হয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মৌয়ালদের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।

জানতে চাইলে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জেই সবচেয়ে বেশি মধু আহরণ হয়। ওই রেঞ্জে ১১৪টি কূপ থেকে মধু আহরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় ২-৩টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া টহল জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তায় বন বিভাগের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, র‍্যাব টহলে থাকছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত