Ajker Patrika

মৃত্যুর ১০ দিন পর দেশে এল প্রবাসী রুহুল আমিনের লাশ

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
মৃত্যুর ১০ দিন পর দেশে এল প্রবাসী রুহুল আমিনের লাশ
মৃত্যুর ১০ দিন পর নিজ বাড়িতে পৌঁছাল প্রবাসী রুহুল আমিনের মরদেহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিন বছর আগে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! কাজ করতে গিয়ে সেখানেই মাটিচাপা পড়ে বেঘোরে প্রাণ হারালেন। মৃত্যুর সময় পাশে পেলেন না কোনো স্বজন, সন্তানকে। আজ রোববার মৃত্যুর ১০ দিন পর মালয়েশিয়া থেকে মো. রুহুল আমিনের (৩৮) মরদেহ ফিরল পরিবারের কাছে।

আগামী কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। অথচ লাশ হয়ে নিজ পরিবারে ফিরতে হলো তাঁকে। লাশ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর এক পলক দেখার জন্য ছুটে আসে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাক্‌রুদ্ধ স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনেরা।

নিহত রুহুল আমিন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর পুকুরপাড়া গ্রামের মৃত মো. বয়েন উদ্দিনের ছেলে। আজ সকাল ৯টার সময় তাঁর লাশ নিজগ্রাম দেবীপুর পুকুরপাড়া এসে পৌঁছায়। বেলা ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। রুহুল আমিন ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ার জহুর বারু পাহাংয়ে কাজ করা অবস্থায় ৩০ ফুট মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

রুহুল আমিনের বড় ভাইয়ের ছেলে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার চাচা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। মাটির নিচে ড্রেনের কাজ করছিলেন। কাজ শেষ করে ওপরে ওঠার সময় মাটি ধসে চাপা পড়ে মারা যান। চাচার সহকর্মীদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রেখেছিলাম। তাঁরা দ্রুত লাশ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ জন্য তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘নিহত রুহুল আমিনের মৃত্যুতে গভীর প্রকাশ করছি। আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর পরিবারের লোকজন বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এলে সরকারি যে সুবিধা পাওয়ার কথা, সেগুলোর ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত