Ajker Patrika

ডাবের পানি খাইয়ে দেড় লক্ষাধিক টাকা লুট, অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্য গ্রেপ্তার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
ডাবের পানি খাইয়ে দেড় লক্ষাধিক টাকা লুট, অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্য গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের লালপুরে ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে দুই ফল ব্যবসায়ীকে অচেতন করে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে ‘অজ্ঞান পার্টির’ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে খুলনার বটিয়াঘাটা ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চেতনানাশক বিভিন্ন সামগ্রীসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা এলাকার উদবাড়িয়া গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. ইমরান খান (৩৭)। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটার হেতালবুনিয়া গ্রামের মো. বাদশা মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি খুলনার দাকোপ উপজেলার টিলভাঙ্গার বটবুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুল হানিফের ছেলে মো. আব্দুল মুসা (৪২)। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গার বানরগাতিয়ার ১২৭/১৩ নম্বর তৃতীয় গলির মোছা. রোজীর বাড়িতে জামাই হিসেবে থাকেন।

মামলার বাদী গোপালপুর পৌরসভার মো. আব্দুল সোবাহান মালের ছেলে মো. রাসেল (২৬) এবং চংধুপইল ইউনিয়নের ঈশ্বরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. শামীম হোসেনের (৩৫) গোপালপুর রেলগেটসংলগ্ন ‘ভাই ভাই ফল ভান্ডার’ নামে একটি যৌথ ফলের দোকান রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, গত ২৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে দুই ব্যবসায়ী দোকান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফল ব্যবসায়ী পরিচয়ে দোকানে আসেন। পাইকারি ফল বিক্রির কথা বলে তিনি সঙ্গে থাকা ডাব, তরমুজ ও অন্যান্য ফলের মান দেখান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি প্রথমে তরমুজ ও অন্যান্য ফল কেটে দোকানিদের খেয়ে পরীক্ষা করতে বলেন এবং নিজেও খান। দোকানিরা ফল খেতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ডাবের পানি পান করতে বলেন। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে দুই দোকানি অচেতন হয়ে পড়েন।

অভিযোগে বলা হয়, অচেতন অবস্থায় দোকানের নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তি চলে যান। আশপাশের লোকজন দুই ব্যবসায়ীকে অচেতন অবস্থায় দেখে মাথায় ও মুখে পানি দেন। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁরা সুস্থ হয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান।

ঘটনার দিনই তাঁরা থানায় এজাহার দেন। লালপুর থানার উপপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার নিয়ে অজ্ঞাত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইমরান খান ও আব্দুল মুসাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণে ব্যবসায়ীসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত