Ajker Patrika

স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরা করে নদীর পাড় ও ঘেরে ফেলেছেন স্ত্রী: পুলিশ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৫: ১৫
স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরা করে নদীর পাড় ও ঘেরে ফেলেছেন স্ত্রী: পুলিশ
অভিযুক্ত আসমা বেগম ও তার স্বামী জিয়া সরদার। ছবি: সংগৃহীত

স্বামী ও সন্তানদের ফেলে মালয়েশিয়া-ফেরত এক যুবকের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হন এক নারী। দাম্পত্য কলহের জেরে নতুন স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন তিনি। হাত-পা ও মাংস আলাদা করে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। তিন দিন পর সেগুলো নিজেই বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন। ড্রামভর্তি মাংস অন্যের বাসায় নিয়ে গিয়ে ধরা পড়েন ওই নারী। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায়।

ওই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা সড়কের পাশ থেকে মাথাসহ মরদেহের একাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রাজ্জাক সরদারের ছেলে জিয়া সরদার (৪০) স্ত্রী আসমা বেগমকে নিয়ে চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে গত মঙ্গলবার (১২ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় পরপর কয়েকটি আঘাত করেন স্ত্রী আসমা বেগম। এতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জিয়া সরদার।

পরে স্ত্রী আসমা বেগম একটি ধারালো ছুরি দিয়ে জিয়ার মরদেহ থেকে হাত ও পা কেটে ফেলেন। হাত-পা ও শরীর থেকে মাংস আলাদা করে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।

এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার নড়িয়া উপজেলার পদ্মার পাড়ে দুটি হাত ও দুটি পা ফেলে দিয়ে আসেন আসমা। তিন দিন পর শুক্রবার বিকেলে একটি অটোরিকশাযোগে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা একালায় বস্তায় ভরে মাথাসহ শরীরের একটি অংশ ফেলে দিয়ে আসেন। পরে পালং স্কুলসংলগ্ন একটি বাড়িতে রাখতে গেলে দুর্গন্ধের কারণে সন্দেহ হলে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ঘটনা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার জুপিয়া গ্রামের সোলেমান শেখের মেয়ে আসমা বেগম। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার আসাদ তালুকদার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

জিয়া সরদারও আগে একটি বিয়ে করেন। সেই ঘরে ১৫ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।

জিয়া সরদার দীর্ঘদিন মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। মোবাইল ফোনে জিয়ার সঙ্গে আসমার পরিচয় হয়। ২০১৯ সালের দিকে গোপনে বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এরই মধ্যে জিয়া সরদার তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন।

এদিকে ছয় মাস যাবৎ নতুন সংসার নিয়ে জিয়া ও আসমা চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন এবং জিয়া চন্দ্রপুর বাজারে একটি করাতকলে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। সম্প্রতি জিয়া ও আসমার মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিয়া সরদারের বাবা রাজ্জাক সরদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ওই নারীকে আজ শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত