Ajker Patrika

বাসে উচ্চস্বরে গল্প করা নিয়ে হাতাহাতি

সমঝোতা বৈঠকের পর ইবিতে দুই বিভাগের মারামারি, শিক্ষকসহ আহত ২

ইবি প্রতিনিধি
সমঝোতা বৈঠকের পর ইবিতে দুই বিভাগের মারামারি, শিক্ষকসহ আহত ২
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মারামারির জেরে ফের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির জেরে ফের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় এবং আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে উভয়েই আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বেলা ১১টার দিকে প্রক্টর অফিসে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা হয়। সভায় গতকালের ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

তবে সভা শেষে শিক্ষকেরা বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম আঘাত পেয়ে অচেতন হন এবং ওই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদ আহত হন। পরে আহত আবু সাইদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও সহকারী প্রক্টর আব্দুল বারীও হেনস্তার শিকার হন।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা তালা খুলে দেন। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন।

আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনার পর তারা সমঝোতায় সম্মত হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনা শেষে তারা প্রক্টর অফিস থেকে নিচে আসছিলেন। তখন উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শিক্ষকেরাও এটা সামাল দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বদিউজ্জামান বলেন, ‘মেডিকেলে একজন অচেতন অবস্থায় এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি সুস্থ হন।’

এদিকে ঘটনা তদন্তে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ, অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মো. রবিউল হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।

বাংলা বিভাগের সভাপতি ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে মিটিং করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার সঙ্গে একমত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত