Ajker Patrika

সেতুর ইট-রড খুলে নেওয়া: শোকজ পেয়ে যে জবাব দিলেন সেই ইউপি চেয়ারম্যান

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ০২
সেতুর ইট-রড খুলে নেওয়া: শোকজ পেয়ে যে জবাব দিলেন সেই ইউপি চেয়ারম্যান
মো. মোকলেছুর রহমান মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ছাড়াই পুরোনো সেতুর ইট ও রড খুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মণ্ডল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে তিনি তাঁর কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি এ কথা নিশ্চিত করেন।

ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, শোকজের জবাব দেওয়ার শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এদিন বিকেল ৪টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান সশরীরে এসে শোকজের জবাবপত্র জমা দেন। জবাবে সেতুর ইট, রড খুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান লিখেছেন, তিনি বুঝতে পারেননি। এটা তাঁর ভুল হয়েছে। পরবর্তীকালে আর এ ধরনের ভুল হবে না। সেই সঙ্গে এবারের মতো ক্ষমাও চেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ইউএনও আরও বলেন, চেয়ারম্যানের দেওয়া শোকজের জবাবপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে পরবর্তীকালে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোকলেছুর রহমান মণ্ডল উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে। মাসখানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়নের একটি পুরোনো সেতু ভেঙে ইট ও রড নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি।

ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ওই ইউপি চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙে ইট ও লোহা নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারি। পরে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে গত সোমবার বিকেলের দিকে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়। এরপরই তড়িঘড়ি করে তিনি তাঁর বাড়িতে রাখা ইট ও লোহা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে পৌঁছে দিতে শুরু করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ইট ও রড এবং শূন্যের ঝুলে থাকা সেতু একই সাথে নিলামে তোলা হয়। এতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সেগুলো নেন।’

এদিকে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক। আর তিনিই যদি এ ধরনের দুর্নীতি করেন, তাহলে আমরা যাব কোথায়।’ ইউপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তোলেন এ সময় তাঁরা।

উল্লেখ্য, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার আলম মিয়ার বাড়িসংলগ্ন একটি সেতু ছিল। পুরোনো হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু মাসখানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে ইট ও লোহাগুলো ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে সেতুটি শূন্যে ঝুলে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়কও। সে কারণে চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত