Ajker Patrika

বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়কে ধস, প্রশ্নের মুখে এলজিইডির সর্ববৃহৎ সেতু প্রকল্প

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৩
বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়কে ধস, প্রশ্নের মুখে এলজিইডির সর্ববৃহৎ সেতু প্রকল্প
বৃষ্টির পানিতে এলজিইডি কর্তৃক দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কে ধস। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা কয়েক দিনের বর্ষণে এলজিইডি নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই সেতু ও সংযোগ সড়কের মান এবং স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ধসের বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে মওলানা ভাসানী সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯২৫ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও চিলমারী উপজেলার সংযোগ সড়কে সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদিন (৫৬) বলেন, `দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই সেতু ও সড়ক নির্মাণে। দুই-তিন দিনের বৃষ্টির পানির আঘাতেই যদি সেই সড়ক ধসে যায়, তাহলে তারা কী কাজ করেছেন? এ ধস দেখার পর থেকে আমাদের ভীষণ ভয় হচ্ছে।'

রংপুর থেকে সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী ফরিদা পারভীন বলেন, `সেতুর পাশেই এ ধরনের গর্ত। বিষয়টি দর্শনার্থীদের জন্য ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে থাকেন। বছর পার হতে না হতেই এ ধরনের গর্ত।' নির্মাণকাজে গাফিলতি থাকতে পারে বলেও তিনি ধারণা করেন।

আরেক দর্শনার্থী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, `বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি এ সেতু দেখতে। শুনেছি বহু টাকা ব্যয় হয়েছে এ সেতু নির্মাণে। সময়ও লেগেছে কয়েক বছর। আর বৃষ্টির পানিতেই যদি সেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যায় তাহলে কী কাজ করেছেন তারা?'

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, `সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির পানিতেই গর্ত তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।' ঝুঁকিপূর্ণ গর্তটি দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবিও জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এ টি এম ইঞ্জিনিয়ার মাজেদ আজাদ বলেন, `ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ চলছে।' তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় জানিয়ে তিনি বলেন, `আর্চ ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই ধারে পানি নামার ড্রেন স্থাপন না করা পর্যন্ত এ সমস্যা থেকেই যাবে। বিষয়টি শুরুতেও বলেছিলাম,' যোগ করেন তিনি।

সড়ক পাকাকরণের কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, `মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তের শহরের মোড় নামক স্থানের সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দেখেছি। ঠিকাদারকে বলাও হয়েছে।'

আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, `এমন সড়ক বৃষ্টির পানিতে ভেঙে যায়। আর এখানে নদী ভরাট করে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কাজেই এটা স্বাভাবিক বিষয়।'

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, `টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাজে কোনো গাফিলতি হয়নি। ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।' তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বিষয়টিকে ‘সিম্পল’ বলে উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত