Ajker Patrika

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন না করায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৪৯
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন না করায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে কাজী শামসুন্নেচ্ছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে অপসারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য মিঞা মোহাম্মদ আলমগীর, সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এনায়েত মুন্সী, স্থানীয় বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন, ছাত্রনেতা আকাশ এবং ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করেননি। এ নিয়ে তিনি আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ। ৫ আগস্টের পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নেও তিনি গড়িমসি করেছেন বলে সমাবেশে দাবি করা হয়।

বক্তাদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক অনিয়মের তদন্ত চলমান। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর প্রভাব খাটিয়ে অরুণ চন্দ্র দত্ত দীর্ঘদিন এসব অপকর্ম করে পার পেয়ে আসছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, দিবসটি উদযাপনের জন্য পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারি পরিপত্র আমি প্রতিটি স্কুলে পাঠিয়েছি এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি কেন করল না, তা আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জানাব।’

প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত দাবি করেন, দিবসটি উপলক্ষে মসজিদে মিষ্টি কিনে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য আমি ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনের কাছে এক হাজার টাকা দিয়েছি। শুনেছি, তিনি ওই টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনে কোর্ট মসজিদে তবারক বিতরণ করেছেন।’

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাজী শামসুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি; তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত