Ajker Patrika

মাইকিং করে স্বল্প খরচে দরজি প্রশিক্ষণের প্রলোভন, কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৫
মাইকিং করে স্বল্প খরচে দরজি প্রশিক্ষণের প্রলোভন, কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও
মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে স্বল্প খরচে দর্জি ও রান্নার প্রশিক্ষণ এবং কম দামে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্বল্প খরচে দরজি ও রান্নার প্রশিক্ষণ এবং কম দামে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে নারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষণের নামে টাকা নেওয়ার পর চক্রটি উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্বরূপকাঠি পৌর শহরের কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে স্বল্প খরচে সেলাই মেশিন দেওয়াসহ দরজি প্রশিক্ষণের কথা বলে পৌর শহরে মাইকিং করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী ৬১ জন নারী ১০০ টাকা করে দিয়ে প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। প্রশিক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয় সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ।

ভুক্তভোগী শিল্পী দাস জানান, মাইকিং শুনে সরকারি পাইলট স্কুলে গিয়ে প্রশিক্ষণে ভর্তি হন তিনি। প্রথমে ১০০ টাকা ভর্তি ফি দেওয়ার পর রান্নার প্রশিক্ষণ ও প্রেশার কুকার দেওয়ার কথা বলে আরও ২০০ টাকা নেওয়া হয়।

শিল্পী দাসের ভাষ্য, দুই দিন ক্লাস করার পর বাড়িতে গিয়ে দরজির কাজ শেখানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে অগ্রিম দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে কয়েক দিন ধরে প্রশিক্ষকদের আর পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের ইন্দেরহাটের বাসিন্দা কলেজপড়ুয়া মাহি তুবা বলেন, ‘আমাদের বাসার ভাড়াটেরা মাইকিং শুনে শাহীন স্টার কিন্ডারগার্টেনে দরজি প্রশিক্ষণে যান। বাসায় বসে দরজি প্রশিক্ষণ নিতে রাজি হই আমি। তখন ইয়াসির আরাফাত নামের প্রশিক্ষক অগ্রিম দুই হাজার টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু স্বরূপকাঠি পৌর শহর নয়, উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা, আকলম, ইন্দেরহাট, সোহাগদল এলাকায়ও একই ধরনের প্রশিক্ষণের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে ওই প্রতারক চক্র পাঁচ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্ধার্থ মণ্ডল জানান, তিনি ওই প্রশিক্ষককে আগে থেকে চিনতেন না। আগস্ট মাসে দরজি প্রশিক্ষণের কথা বলে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ভাড়া চান। পরে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচ সপ্তাহের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রধান শিক্ষকও কীভাবে একজন লোকের পরিচয়পত্র না নিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষ ভাড়া দিলেন, বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত