Ajker Patrika

খসে পড়ছে পলেস্তারা সংস্কারে উদ্যোগ নেই

হালুয়াঘাট(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
খসে পড়ছে পলেস্তারা সংস্কারে উদ্যোগ নেই
ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত শহীদ মিনার। হালুয়াঘাটের শিমুলকুচি গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রধান সড়ক পেরিয়ে ৮৯০ মিটার ফসলি জমির আল ধরে যেতে হয় ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের নামাঙ্কিত শহীদ মিনারে। ২০১০ সালে সরকারিভাবে নির্মিত শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় শহীদ মিনারে ধরেছে ফাটল, খসে যাচ্ছে পলেস্তারা। এমন জরাজীর্ণ শহীদ মিনারটির অবস্থান ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের শিমুলকুচি গ্রামে। ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতি রক্ষায় শহীদ মিনারটি সংস্কার ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভাষাশহীদের নাতনি আফরোজা বেগম রুবা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমার দাদার স্মৃতি রক্ষায় কেউ কোনো উদ্যোগ নেন না। শহীদ মিনারে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। খেতের বাতুর (আল) পাড়ইয়া (পাড়ি দিয়ে) যাইতে হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি মানুষজন খোঁজখবর নিলেও পরে আর কেউ মনে রাখে না। আমাদের এখন কেউ খোঁজ নেয় না, মূল্যায়ন করে না। আমার বাবা বেঁচে থাকতে একটা ভাতা পাইতাম, এখন সেটাও মেলে না। স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত স্থাপনাগুলো সংস্কার অইব বইলা মনে অয় না।’

গতকাল শুক্রবার হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের শিমুলকুচি এলাকায় ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের বাড়িতে গেলে এমন আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন তিনি।

ভাষাশহীদ জব্বারের ভাতিজা আতিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে শায়িত আছেন ভাষাশহীদের মা, স্ত্রী আমেনা খাতুন, একমাত্র সন্তান বাদল এবং সহোদর চার ভাই। এই গ্রামে একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, একটি জামে মসজিদ, একটি ফাউন্ডেশনসহ স্মৃতি পাঠাগার থাকলেও এগুলো রক্ষায় কোনো কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেই। নতুন প্রজন্মর কাছে তাঁর জীবনী তুলে ধরতে বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানাই।’

ভাষাসৈনিক শহীদ আবদুল জব্বারের জন্মস্থান ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায়। ১৯৫০ সালের শেষ দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গাজিরভিটা ইউনিয়নের শিমুলকুচি গ্রামে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে আসেন। তখন আবদুল জব্বার আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন।

হালুয়াঘাটের ইউএনও মো. আলীনূর খান বলেন, ‘মিনারটি এমন এক জায়গায় নির্মিত, যেখানে সংযোগের জন্য কোনো রাস্তা নেই। যদি মালিকেরা যদি জমি দিতে আগ্রহী হন, এ বছর সড়কটি করে দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত