Ajker Patrika

সাটুরিয়ায় ৭ কোম্পানির ৮ সার বিক্রিতে কৃষি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৪৩
সাটুরিয়ায় ৭ কোম্পানির ৮ সার বিক্রিতে কৃষি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৭ কোম্পানির ৮ ধরনের সার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পরীক্ষাগারে নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় সাতটি কোম্পানির আট ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সারকে ভেজাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এসব সার মজুত, ক্রয় ও বিক্রয় বন্ধের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ করা পণ্য জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক লিখিত নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সার ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে পৌঁছায়। প্রতিবেদন পাওয়ার ছয় দিন পর সংশ্লিষ্ট সারগুলোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চরতিল্লি, চরসাটুরিয়া, দরগ্রাম, বালিয়াটি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ডিলার ও খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬টি সার ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষার প্রতিবেদনে সাতটি প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়।

কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সারগুলোকে ভেজাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব সার মজুত, ক্রয় ও বিক্রয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাবিলন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ব্যাবিলন বোরন, ব্যাবিলন অ্যাগ্রিসায়েন্স লিমিটেডের ব্যাবিলন জিংক (জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট), নিউ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিউ সলুবোর ও সলিড জিংক মনো, অ্যাগ্রো মাইন (প্রা.) লিমিটেডের বিজয় জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট, হোসেন এন্টারপ্রাইজ সিসি লিমিটেডের মনোজিংক (জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট), ডেলকো অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের জিবি জিংক (মনোহাইড্রেট) এবং গ্রিন বাংলা অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৭ কোম্পানির ৮ ধরনের সার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৭ কোম্পানির ৮ ধরনের সার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

গত সোমবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাস্সুম স্বাক্ষরিত নোটিশে সাটুরিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব সার মজুত, ক্রয় ও বিক্রয় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই তারিখে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিপণন কর্মকর্তাদের বাজারে সরবরাহ করা এসব সার জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, পরবর্তী পরিদর্শনের সময় বাজারে উল্লেখিত সার পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়কেও জানানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাস্সুম বলেন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সার উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। জিংক, বোরনসহ এসব উপাদান অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও উদ্ভিদের বৃদ্ধি, পুষ্টি গ্রহণ ও ফলনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ধারিত মাত্রার উপাদান না থাকলে সংশ্লিষ্ট ফসলে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও ফসলের সুরক্ষায় সারের বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভেজাল সার বা কীটনাশকের সঙ্গে জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, নিম্নমানের সার ব্যবহারে তাঁদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত হরগজ ইউনিয়নের কৃষক আ খ ম নূরুল হক বলেন, আগে সামান্য সারেই ভালো কাজ হতো। এখন নামী কোম্পানির সার ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ ছাড় পাবে না। ভেজাল সারের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত