Ajker Patrika

দুদকের মামলায় মৎস্য সমিতির চার দলনেতার পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
দুদকের মামলায় মৎস্য সমিতির চার দলনেতার পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের দেওয়া ফিশিং বোট, নগদ টাকাসহ অন্যান্য সরাঞ্জাম সমিতির নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের পৃথক চার মামলায় চারজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে আত্মসাৎ করা অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত নগরের কোতোয়ালি থানায় দুদকের চারটি মামলার পৃথক রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এই আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ওমর ফারুক ও মো. ছাত্তার। একই সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রতিটি মামলায় আসামি হিসেবে থাকা এক সমবায় কর্মকর্তাকে সবগুলো মামলায় খালাস দিয়েছেন আদালত।

এর আগে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে দুদক বাদী হয়ে পৃথক চারটি মামলা করেছিল। আজ আদালতে এই চার মামলার রায় হয় বলে দুদকের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন। এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের পৃথক আইনজীবীরা অংশ নেন।

দুদকের চার মামলার একটিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০০৩ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্দীপের পূর্ব মাইটভাঙ্গা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা নুরুল ইসলাম ও উপজেলাটির এক সমবায় কর্মকর্তাকে আসামি করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছিল দুদক।

প্রতারণা ও জালিয়াতির দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এই মামলা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে সমিতির নামে ফিশিং বোট, সরাঞ্জামাদি, নগদ ৪৬ হাজার টাকাসহ মোট ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ২২৫ টাকা মূল্যের পণ্য ঋণ সুবিধা গ্রহণপূর্বক প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

আজ ওই মামলায় আদালত আসামি নুরুল ইসলামকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও আত্মসাৎ করা অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই রায়ে মামলার অপর আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

দুদকের পৃথক এজাহারে জানা গেছে, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের জন্য ২০০০ সালে সন্দীপ উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে প্রতি দলওয়ারি ফিশিং বোট, মাছ ধরার জালসহ অন্যান্য সরাঞ্জাম ও নগদ টাকা দিয়েছিল সরকার। বাংলাদেশ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পে তখন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এ সময় প্রত্যেক আসামি সমিতির নামে ফিশিং বোট, জালসহ অন্যান্য সরাঞ্জাম ও নগদ টাকা সুবিধাসহ ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ২২৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। নগরের কোতোয়ালি থানাধীন ফিশারিঘাটে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয় থেকে আসামিরা এই সুবিধা নিয়েছিলেন।

২০০৩ সালে ওই ঘটনায় চার সমবায় সমিতির দলনেতাকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় পৃথক চারটি মামলা করেন দুদকের তৎকালীন পরিদর্শক মবিনুল ইসলাম। এসব মামলায় সবকটিতে আসামি করা হয়েছিল উপজেলাটির একজন সমবায় কর্মকর্তাকেও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত