Ajker Patrika

বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে স্কুলছাত্রের মাথায় শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারাল ছাত্র

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১৬: ৫৫
বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে স্কুলছাত্রের মাথায় শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারাল ছাত্র
আহত শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের মারধরে মুগ্ধ তালুকদার (১১) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠান। আহত মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে।

মুগ্ধর বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বসবাস করেন। আর মুগ্ধ তার নানার বাড়ি বরান্তর গ্রামে থেকে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মুগ্ধ অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ তাকে মারধর করেন। এরপর ফ্রিজে থাকা বরফ জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। আঘাতের পরপরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরায়। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে বাড়িতে কিছু বললে শিশুটিকে আরও মারবেন এবং ফেল করিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিয়ে কাউসার আহমেদ তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায়, বমি করে এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাত কাটান। আজ মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা পার্থ সরকার বলেন, মাথায় আঘাতটি জটিল মনে হচ্ছে। সিটি স্ক্যান করে অবস্থা বুঝতে হবে। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে মমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আহত মুগ্ধর খালা মুক্তা খান বলেন, ‘মুগ্ধর বাবা-মা এলাকায় থাকে না। আমরাই তার অভিভাবক। স্কুলে শিক্ষার্থীদের মারধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও একজন শিক্ষক কীভাবে এমন করে মারতে পারেন, আমরা জানতে চাই। আমরা এ ঘটনায় সঠিক বিচার চাই।'

শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষক কাউসার প্রায়ই শিক্ষার্থীদের এভাবে মারধর করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমার সঙ্গেই রয়েছেন, এ বিষয়ে কথা বলছি তাঁর সঙ্গে। বিষয়টা আমি দেখছি। সবকিছুর মধ্যে আপনারা হাত দিলে কেমনে চলব? বিষয়টা সমাধান করতে দেন। আগামীকাল শিক্ষা অফিসার বিষয়টা তদন্তে যাবেন। এটা আমি দেখছি।'

যোগাযোগ করলে খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিমেল কদর (চলতি দায়িত্ব) বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আপনার থেকেই প্রথম জানলাম। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত