Ajker Patrika

ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ঝুঁকিতে পথচারীরা

 আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ০০
ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ঝুঁকিতে পথচারীরা
ফুটপাতে ফল ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল বসানো হয়েছে। আগৈলঝাড়া সদর থেকে গতকাল দিবাগত রাতে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির সামনে ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন অস্থায়ী দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধার্থে আগৈলঝাড়ার প্রধান সড়কের পাশ ঘেঁষে নির্মিত ফুটপাত এখন কার্যত দোকানপাটে ভরে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের অধিকাংশ জায়গা দখল করে ফল ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল বসানো হয়েছে। ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নামতে বাধ্য হতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখলের কারণে তারা ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করছে। একই সঙ্গে সড়কের পাশেও ছোট-বড় দোকান বসায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

ফুটপাত রেখে সড়কে হাঁটছেন কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে পথচারী দবির হোসেন বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে কীভাবে হাঁটব? দোকানের জন্য কি আর সে উপায় আছে? বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়।’

আরেক পথচারী গিয়াস পাইক বলেন, ‘ফুটপাত তো হকারদের জন্য, আমাদের জন্য না। যদি আমাদের হতো, তাহলে এভাবে দখল করে ব্যবসা করতে পারত? আমরা পথচারীরা হাঁটার জায়গা পাই না, আর এরা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে। এদের কারণে আমরা ফুটপাত রেখে রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। আর বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। কোনো সরকারই এগুলো দেখে না। ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে কেউই উদ্যোগ নেয় না।’

তবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসিক চুক্তিতে চাঁদা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।

এর আগে কয়েক দফায় প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালেও অভিযান শেষে আবারও ব্যবসায়ীরা দোকান সাজিয়ে বসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগৈলঝাড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাগর হাওলাদার বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি বলেন, স্কুলের সামনের অংশ অবৈধভাবে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার বলেন, ‘ফুটপাত দখলকারীদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত তাদের অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত