Ajker Patrika

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ঢামেক প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সোমবার ভোরের দিকে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন এসি মসজিদের পাশে হালিমা মঞ্জিলের ৩য় তলায় রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে আহতদের সবাই ৩০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধ রোগীগুলো দেখতে এসে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যত ধরনের মেডিসিন আছে সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে। বাকি আরও কিছু লাগলে আমরা আশ্বস্ত করেছি আমরা সেটা জোগান দেব। আগুনে পোড়া মানুষের অনেক কষ্ট হয়। আমরা চেষ্টা করছি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন সবাইকে রক্ষা করেন।’

এ সময় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমাদের দেশে তিন ধরনের দুর্যোগ ঘটে। এর মধ্যে একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। আমরা আলোচনা করে দেখেছি এই গ্যাস লিকেজ থেকে সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। গতকাল চট্টগ্রামের ঘটেছে এবং আজ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ রকম ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ, শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তিন মন্ত্রণালয় এ বিষয় নিয়ে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এটা কীভাবে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেগুলো অল্প সময়ের ভেতরে তিন মন্ত্রণালয় বসে কাজ করব। যাতে করে ভবিষ্যতে এ রকম দুর্ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়। আর আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যতটুকু সাপোর্ট দরকার আমরা সেই সাপোর্ট দেব। এটা খুবই মর্মান্তিক যে, নারী ও শিশুরা আক্রান্ত হয়েছে।’

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ৯ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন জরুরি বিভাগে মারা গেছেন। বর্তমানে ৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামের এই ঘটনা আমরা আগে থেকে জানতে পেরেছিলাম। চিকিৎসার সবই প্রস্তুত ছিল। এ বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনেকবার যোগাযোগ করে স্থানীয় এমপি যোগাযোগ করেন। সন্ধ্যার দিকে রোগীগুলো হাসপাতালে আসেন। একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বাকিদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেই। কাউকে আইসিইউতে, এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) শিফট করে দেই।’

ডা. নাসির বলেন, ‘চট্টগ্রামের এই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, এত আলোচনায় এসেছে। তবে এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত