Ajker Patrika

সোনা ছিনতাই মামলায় পুলিশ কনস্টেবল দুই দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪০
সোনা ছিনতাই মামলায় পুলিশ কনস্টেবল দুই দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালতে শুনানি শেষে তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওসি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জাকির হোসেনকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার অপর আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চক আলমপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী জানান, তাঁর শ্যালক নিঝুমের ৪০ ভরি স্বর্ণের চালানটি তিনিই চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান। পুলিশি অভিযানের নামে এই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই কনস্টেবল জাকিরকে ঠিক করেছিলেন। তিনি আরেক ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণ তুলে দেওয়ার পর জাকির হোসেন তার এক বন্ধুকে নিয়ে ওই স্বর্ণ ছিনতাই করেন। গত ৮ আগস্ট বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীতলা ব্রিজ এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দিবাগত রাত ২টা ২ মিনিট থেকে ২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন তাঁর চাচাতো ভাই মশিউর রহমানকে ছয়বার ফোন করেন। এ সময়ে তাঁদের মধ্যে মোট ২৮ মিনিট কথা হয়।

পরে ৯ আগস্ট ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি রাজশিয়ার দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুরে যান জাকির। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তাঁকে দুর্গাপুরের আলীপুর গ্রামে এবং ৮টা ২০ মিনিটে পাচুবাড়ি গ্রামে অবস্থান করতে দেখা যায়। সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে তিনি দুর্গাপুরের পার্শ্ববর্তী বাগমারার গঙ্গানারায়ণপুর গ্রামে ছিলেন। এরপর মোহনপুরের বাকশিমইল ও সইপাড়া হয়ে তানোর উপজেলা সদরে যান। সেখান থেকে মুন্ডুমালা–আমনূরা সড়ক দিয়ে সকাল ১০টার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর আগে তিনি এলাকার দুজন স্বর্ণকারকে ফোন করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে ওই দিন চারবার ফোনে কথা বলেন জাকির।

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের পর জাকির ১০ দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে অফিসার্স মেসে যোগ দিলে তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে ব্যবসায়ী নিঝুম কনস্টেবল জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই রাতেই পুলিশ লাইন থেকে জাকিরকে এবং বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পুলিশকে মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তবে জাকির হোসেন এখনও তা স্বীকার করেননি। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত