
মযহারুল ইসলাম বাবলা
মযহারুল ইসলাম বাবলা
সকল লেখা

জাতীয়তার দৃঢ় সংহতি
দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছিল বহু আগে পশ্চিম বাংলার জমিদারদের উদ্যোগ ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে। নানা বিবর্তনে দুর্গাপূজা এখন বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। জানা যায়, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষেরা তাঁদের প্রাসাদে পূজার প্রবর্তন করেছিলেন।

...কেবলই কানামাছি
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীনই আন্দোলনের নতুন নামকরণ করা হয় ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলন। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানতম সমস্যাটি হচ্ছে বৈষম্য। সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার সমষ্টিগত মানুষ। এতে আন্দোলনের গতি প্রবলতর হয়ে ওঠে, সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে। বাস্তবে আন্দোলনকারীরা বৈষম্য শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন

অসামান্য রফিক ভাই
আমাদের দেশে জ্ঞানী-পণ্ডিতের সংখ্যা নিতান্ত স্বল্প না হলেও, সমাজে জ্ঞানীর পাশাপাশি বিবেকবান, নীতিনিষ্ঠ পণ্ডিতজনের বড়ই অভাব। হাতে গোনা যে দু-চারজন আছেন, তাঁদেরই একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আহমদ রফিক। যিনি আমাদের ক্ষমতার রাজনীতির কেনা-বেচার হাটে পার্থিব লোভ-লালসায় নিজেকে কখনো বিকিয়ে দেননি।

বৃত্তবন্দী রাজনীতি
পরস্পরবিরোধী পৃথক দুই জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আমাদের এই ভূখণ্ড দুইবার স্বাধীন হয়েছে। একবার ১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্টে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদে; দ্বিতীয়বার ১৯৭১ সালের মধ্য ডিসেম্বরে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে। দুইবারের স্বাধীনতাও এসেছে সম্পূর্ণ বিপরীত উপায়ে। প্রথমটি গোলটেবিল ষড়যন্ত্রে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের

গরুকেন্দ্রিক ধর্মাচার ও রাজনীতি
ভারতবর্ষে গরু জবাইকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রক্তপাতের অজস্র ঘটনা ঘটেছে। এখনো যে ঘটছে না, তা নয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ হয়েছে। পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত কোথাও না থাকলেও ভারতে কেন রয়েছে? কারণ ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষমতালাভ। যেন মানুষের জীবনের চেয়েও গরুর জীবন অনেক বেশি মূল্যবা

পত্নীনিষ্ঠ ভদ্রলোক
আমাদের এখানে তো যৌথ পরিবার ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও টিকে আছে। পশ্চিম বাংলায় যৌথ পরিবার বহু আগেই ভেঙে গেছে। সেখানে পরিবারমাত্রই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা। এর বাইরে ভাইবোনেরা তো পরের কথা, বাবা-মা পর্যন্ত পরিবারভুক্ত নয়। বিয়ের পর সন্তানেরা পিতা-মাতার দায়দায়িত্ব উপেক্ষা করে একত্রে বসবাস করে না। স্ত্রীর

‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়’
শিরোনামের কথাগুলোর প্রকাশকাল নিঃসন্দেহে ঔপনিবেশিক শাসনামলে। ভারতবর্ষ যখন মোগল সাম্রাজ্য ও ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক ঔপনিবেশিকের অধীনে ছিল। রাজতান্ত্রিক শাসনামলের কারণেই রাজা, রাজ্য, প্রজা শব্দের প্রাসঙ্গিকতা, প্রচলন ও প্রকাশ পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থায় রাজা-প্রজার ভিত্তি নেই।

বাংলা নববর্ষ, দ্বান্দ্বিকভাবে দেখা
বলা হয়, সব ধর্মমতের বাঙালি জাতিসত্তার একমাত্র পার্বণটি বাংলা নববর্ষ। পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনকে অসাম্প্রদায়িক একমাত্র উৎসব হিসেবে গণ্য এবং প্রচার-প্রচারণাও করা হয়। বাস্তবিকই সব সম্প্রদায়ের বাঙালির পক্ষে একমাত্র বাংলা নববর্ষ পালন করা সম্ভব। অথচ বাংলা নববর্ষ পালনে ধর্মের সম্পৃক্ততাকে

স্বাধীনতার কড়চা
আমাদের এই ভূখণ্ডের মানুষই ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে ভোট দিয়েছিল। তাদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা জুড়ে ছিল নতুন রাষ্ট্রে তাদের অধিকার-মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। পূর্ব বাংলার মুসলিমরা তাই পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের যে পাঞ্জ

নাম দিয়ে চেনা না-চেনা
আমাদের দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের নামকরণে প্রচুর মানুষের নামের অগ্রভাগে মোহাম্মদ থাকে। আরব দেশগুলোয় ব্যক্তির নামের অগ্রভাগে মোহাম্মদ দেখা যায় না। মোহাম্মদ একটি পূর্ণাঙ্গ নাম হিসেবেই তারা গণ্য করে। ইরাকে থাকার সময়ে জনৈক ইরাকি আমাকে প্রশ্ন করেছিল, আমাদের সবার নামের অগ্রভাগে মোহাম্মদ কেন? আমি সদুত্তর দিতে

বহুভাষী মানুষের দেশে রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক
বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। অন্য ভাষার মানুষও কিছু আছে। তবে এই সংখ্যা খুব কম। তাই রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে বিকল্প ভাষার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ প্রতিবেশী ভারতে এটা কল্পনাও করা যায় না। কারণ, ভারতে বহু ভাষীর মানুষের বাস।

স্মৃতিতে উনসত্তর
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি হরতালের দিন ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হওয়ার পর আন্দোলনের গতি স্ফুলিঙ্গের মতো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। শেখ কাদেরের নেতৃত্বে আমরা আজিমপুর এলাকায় মিছিল বের করি।

বিত্তই বিচ্ছিন্নতার মূলে
সমাজে আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে আমরা বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের পরিচয় দিতে পছন্দ করি, নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির তাগিদে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যার পরিচয় দেওয়া হয়, তিনি কিন্তু তুলনায় নিম্ন অবস্থানের আত্মীয়ের পরিচয় দেওয়া পরের কথা, তাদের স্মরণেও রাখতে চান না।

আনন্দ-বেদনার বিজয়ের স্মৃতি
পাকিস্তানিদের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশ। অথচ স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও বেদনার সঙ্গে বলতে হচ্ছে, অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটেনি, বরং প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।

চেতনায় ভাসানী
১৭ নভেম্বর, ১৯৭৬। সম্ভবত রাত সোয়া আটটায় ভাসানীর মৃত্যুসংবাদ শোনামাত্র ছুটে যাই ঢাকা মেডিকেলের তৃতীয় তলার পরিচিত কেবিনে। করিডরে উৎসুক মানুষ আর ভাসানীর অনুসারীদের ভিড়। ভিড় ঠেলে কেবিনের দরজায় ধাক্কা দিই। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা খোলামাত্র ভেতরে...

আকু-মাকুর দেশে
আরবি ভাষায় ফি-মাফির বঙ্গানুবাদ; আছে এবং নেই। অথচ ইরাকে ‘আছে’কে ‘আকু’ এবং ‘নাই’কে ‘মাকু’ বলে। আরবিভাষী আরব জগতে ভাষার ভিন্নতা সামান্য হলেও সব আরব দেশেই রয়েছে। তবে একটি বিষয়ে বোধকরি ভিন্নতা নেই, সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রপ্রধানদের একনায়কত্বের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। সর্বত্রই একনায়কতন্ত্রের জয়যাত্রা। ব্যক্তিকেন্দ্রিক
